শ্রীনগর: নিজেকে গর্বিত দেশদ্রোহী বলে দাবি করলেন পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি। দেশের একটি অঙ্গ রাজযের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরণের মন্তব্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

বিতর্কের সূত্রপাত, কংগ্রেস নেতা কমল হাসানের মন্তব্য থেকে। দিন কয়েক আগে তিনি বলেন, “নাথুরাম গডসে স্বাধীন ভারতের প্রথম হিন্দু সন্ত্রাসবাদী।” সেই বিষয়ে বৃহস্পতিবার ভোপালের বিজেপি প্রার্থি সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন, “নাথুরাম গডসে একজন সাচ্চা দেশপ্রেমিক৷ বরাবরই তিনি দেশপ্রেমী ছিলেন ও ভবিষত্যেও থাকবেন৷”

কংগ্রেস এবং বিজেপি নেতাদের এই বাগযুদ্ধের মাঝে নিজেকেও সামিল করে নিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। সাধ্বী প্রজ্ঞার এদিনের মন্তব্যের পরে এই বিষয়ে নিজের অভিমত সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন মেহবুবা। ট্যুইটারে তিনি লেখেন, “যে হিন্দু ধর্মান্ধ জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে গুলি করে খুন করেছিল সে যদি দেশপ্রেমী হতে পারে তাহলে আমি দেশদ্রোহী হিসেবে গর্বিত।”

জাতির জনকের হত্যাকারী ব্যক্তিকে দেশপ্রেমী আখ্যা দেওয়া নিয়ে বিজেপি শিবিরকেও কটাক্ষ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি বলেছেন, “জাতির জনকের খুনিকে দেশপ্রেমী বলতে হবে! এই ধরণের জাতিয়তাবাদ এবং দেশভক্তি আমাদের আয়ত্বের বাইরে। এই দেশভক্তির জন্য আপনাদের(বিজেপি) শুভেচ্ছা।”

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ভোটসপ্তমীর আগে জাতির জনকের খুনিকে টেনে এনে বিতর্কে জড়ান অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া কমল হাসান৷ সেই মন্তব্য দেশ জুড়ে প্রবল বিতর্কের ঝড় তোলে৷ এত কিছুর পরেও নিজের মন্তব্যে অনড় কমল হাসান৷ এবার জানান, যা বলেছেন তা ঐতিহাসিক সত্য৷

কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন দক্ষিণী সুপারস্টারের মন্তব্যের প্রবল বিরোধিতা করেন৷ জানান, উনি খুনি ও সন্ত্রাসবাদীর মধ্যে ফারাক ভুলে গিয়েছেন৷

জবাব দেন কমল হাসান৷ বলেন, ‘‘আমি সন্ত্রাসবাদীর মানে বুঝি৷ আমি খুনি শব্দ ব্যবহার করতে পারতাম.. ওদের অভিযোগ, আমি হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করেছি৷ আমার পরিবারে অনেক হিন্দু আছে৷ আপনি সহিষ্ণুতা দেখাবেন না অন্য বিশ্বাসকে গ্রহণ করবেন.. সহাবস্থান থাকা দরকার৷ আমাকে অপমান করুন৷ কিন্তু আমি নিজের চিন্তাধারা থেকে সরে আসব না৷’’

১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি দিল্লির ‘বিড়লা হাউস’-এ বিকেলের প্রার্থনায় যাওয়ার সময়ে মহাত্মা গান্ধীকে সামনে থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে নাথুরাম গডসে৷ দিল্লির লাল কেল্লায় গান্ধী হত্যা মামলার বিচার চলাকালীন গডসে নিজেও এই হত্যার কথা স্বীকার করে নেন৷ দেশভাগের জন্য গান্ধী-ই দায়ী বলে মনে করতে তিনি৷ সেই বিশ্বাস থেকেই এই খুন বলে জানান গডসে৷ ১৯৪৯ সালের ১৫ই নভেম্বর গডসের ফাঁসি হয় পাঞ্জাবের আম্বালা জেলে।