নয়াদিল্লি-শিলং-আইজল: দ্রুত ব্যবস্থা নিন, না হলে আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা৷ তাঁর দাবি, অবিলম্বে নাগরিকত্ব সংশোধনী পদক্ষেপ থেকে সরে আসুক কেন্দ্র সরকার৷

বিলটি আইনে পরিণত করার চেষ্টা করতেই কেন্দ্র সরকার তথা বিজেপি বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারত৷ মেঘালয়ে বিজেপির সঙ্গেই জোট করে সরকার গড়েছে এনপিপি৷ আর সেই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা৷ তিনি আগেই প্রতিবাদ মুখর হয়ে সরকার ছেড়ে বেরিয়ে আসার হুমকি দিয়েছিলেন৷

এদিকে মিজোরামেও ছড়িয়েছে অসন্তোষ৷ শুক্রবার নয়াদিল্লিতে রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরাম থাঙ্গা৷ তিনিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন৷ পরিস্থিতি এমন যে মেঘালয় ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেই দুই রাজ্য এনডিএ শিবিরের হাতছাড়া হবে৷ কারণ একার ক্ষমতায় এই দুই রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়তে পারবে না৷

দিল্লিতে একযোগে মেঘালয় ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীরা হুঙ্কার ছাড়তেই এনডিএ শিবিরে শুরু হয়েছে অস্বস্তি৷ রাজধানীর রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন- চিন্তা বাড়ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর৷ যদিও বিলটি ঘিরে বিরোধ সামাল দিতে বিজেপি অবিলম্বে ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে উত্তর পূর্বে পাঠিয়েছে দলেরই শীর্ষ নেতা রাম মাধবকে৷

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল:
এতে প্রতিবেশী মুসলিম বহুল রাষ্ট্রগুলি (পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ) থেকে আসা অ-মুসলিমদের সরাসরি ভারতে নাগরিক হওয়ার প্রস্তাব রেখেছে কেন্দ্র৷ এখানেই প্রবল আপত্তি উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির বাসিন্দা ও রাজনৈতিক দলগুলির৷ তাদের অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনীর জেরে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর হিন্দুরা ঢুকে পড়বেন ভারতে৷ তারা চলে এলে উত্তর পূর্ব ভারতের স্থানীয় জনগোষ্ঠী বড়সড় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে৷ পাশাপাশি বাড়বে জাতিগত সংঘাত

এদিকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের বুদ্ধিজীবীদের সরাসরি অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী করে ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিক হওয়ার পথ খুলে দিচ্ছে বিজেপি৷ এটি সংবিধান বিরোধী অবস্থান৷

উত্তপ্ত উত্তর পূর্বাঞ্চল (অসম, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড) :
বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় বিলটির বিরোধিতায় গত ৮ জানুয়ারি বনধ চলাকালীন উপজাতি বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালায় পুলিশ৷ তাতে ক্ষোভ আরও ছড়িয়েছে৷

অসমের রাজনৈতিক অবস্থা ঘোরতর৷ এখানে সরকার বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে৷ খোদ বিধানসভার স্পিকার ও বিজেপি বিধায়করা সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন৷ সরকার ছেড়েছে অন্যতম শরিক দল অগপ৷ দেলের নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মোহন্ত ঝুঁকে পড়েছেন অ-বিজেপি শিবিরের দিকে৷ পাশাপাশি অসম সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে অপর শরিক বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট৷ মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল ও শীর্ষ বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে চলছে বিক্ষোভ৷

অরুণাচল প্রদেশেও ছড়িয়েছে ক্ষোভ৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ দেখিয়ে সদ্য বিজেপি ছেড়ে দিয়েছেন এই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গেগাং আপাং৷ তিনি এখন তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরের ঘনিষ্ট৷