স্টাফ রিপোর্টার, বোলপুর: পৌষমেলার মাঠ কি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা হবে নাকি ফেন্সিং বসানো হবে? এই প্রশ্নের সমাধান পেতে শনিবার ব্যবসায়ী, ছাত্র, আশ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল হাইকোর্টের তৈরি করা কমিটি। কিন্ত সেই বৈঠকে পাঁচিল দেওয়ার সিদ্ধান্ত অধরাই রইল।

এদিন বেলা ১১টা নাগাদ বিশ্বভারতীর সেন্ট্রাল অফিসে বৈঠকে বসেন কলকাতা হাইকোর্ট গঠিত কমিটির ৪ সদস্য। সঙ্গে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা, এসপি শ্যাম সিং, ব্যবসায়ী সমিতি, আশ্রমিক, পড়ুয়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিধিরা। ১২.৪০ পর্যন্ত আলোচনা কার্যত নিষ্ফলা। বৈঠক থেকে বেরিয়ে অধিকাংশেরই বক্তব্য, কমিটির কথায় মনে হয়েছে যে তাঁরা মেলার মাঠ পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই নিয়েছেন। তাই আলোচনা অর্থহীন।

উল্লেখ্য, কদিন আগেই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাইকোর্ট।

গত রবিবার সকালে পৌষ মেলার মাঠে যান হাইকোর্টের তৈরি ওই কমিটির চার সদস্য। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ওয়াই যে দস্তুর ও রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। সেখানে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সঙ্গে। সৌজন্য বিনিময় সেরে উপাচার্য, ডিএম, এসপি, বোলপুরের অ্যাডিশনাল এসপি শান্তিনিকেতন থানার ওসি-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। সেখানেই এদিনের বৈঠকের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শনিবার সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক নিষ্ফলা হল।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মেলার মাঠে পাঁচিল তোলার কাজ করালেও, স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের একাংশ পে-লোডার নিয়ে এসে সেই নির্মাণ ভেঙে দেন। এরপর রাজনীতির আঁচ আরও বেশি করে এসে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। পাঁচিল ভাঙায় স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ। বিধায়ক ছাড়াও আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

পাঁচিল তোলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয় পড়ুয়াদের একাংশ। দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয় নজিরবিহীন অচলাবস্থা। এই তাণ্ডবের পর সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব হয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।