স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: সপ্তদশ লোকসভার গণনার কিছু ঘণ্টা আগে বিজেপির নেতৃত্ব ছাড়াই অনুষ্ঠিত হল ভাটপাড়া পুরসভার শান্তি বৈঠক৷ ভাটপাড়া পুরসভার মধ্যে শান্তি বৈঠকের আয়োজন করল প্রশাসন। ভাটপাড়া শহরে যে কোন মূল্যে শান্তি ফেরানোর জন্য এই বৈঠক আয়োজন করে প্রশাসনের কর্তারা।

বৈঠকে বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন সম্প্রদায় তথা পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা এবং ভাটপাড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। ভাটপাড়া শহরে উপনির্বাচনের দিন থেকে হিংসার ঘটনা ঘটছে। নতুন করে যাতে ভাটপাড়া শহরে হিংসা না ছড়ায় সেই জন্য এই শান্তি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকে ভাটপাড়া এলাকার বিভিন্ন মন্দিরের পুরোহিত, মসজিদের ইমামরা ও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এদিনের এই শান্তি বৈঠকে বিজেপির কোন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।

এদিন অর্জুন সিং সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে দল বদলের পর থেকে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আমাকে আদালত জানিয়েছে, আগামী ২৮ তারিখ পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারবে না রাজ্য সরকারের পুলিশ। ওরা ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসাতে চাইছে। পুলিশ কমিশনারের উপস্থিতিতে আমাকে লক্ষ করে বোমা ছোঁড়া হয়েছিল। গণনা কেন্দ্রে আক্রান্ত হতে পারি আমি।’’

তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূল আশ্রিত বহিরাগত দুষ্কৃতীরা ক্যাটারিংয়ের সার্ভিস বয়ের কর্মী সেজে বন্দুক নিয়ে গণনা কেন্দ্রে ঢুকে আমার উপর প্রাণঘাতী হামলা করতে পারে। আমি এই আশঙ্কার কথা দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। আমি যাতে কাউন্টিং হলে যেতে না পারি সেই চেষ্টা ওরা করছিল। পুলিশকে দিয়ে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের চেষ্টা করেছিল। সেই কারণে আমি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হই। এখন আমি সহজে সব জায়গায় যেতে পারব। ফলাফলে দেখবেন আমিই জিতব।’’

বিজেপি নেতা অর্জুন বলেন, ‘‘দীনেশ ত্রিবেদী এখানে তিন নম্বরে থাকবে। পবনও জিতবে। ওরা জিতবে না। ওরা যে মিথ্যা মামলা দিয়েছে তার কোন প্রমাণ নেই। ওই মামলা আদালতে এক মিনিটও টিকবে না। সব খারিজ হয়ে যাবে।’’ এদিকে মদন মিত্র এবং দীনেশ ত্রিবেদীকে ভাটপাড়ায় সংঘর্ষ কবলিত এলাকায় ঢুকতে নিষেধ করেছে।

তৃণমূলের এই দুই নেতা এলাকায় ঢুকলে উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে, সেইজন্যই তাদের এলাকায় ঢুকতে নিষেধ করেছে পুলিশ প্রশাসন। এই বিষয়ে মদন মিত্র বলেন, ‘‘অর্জুন ২৮ তারিখ পর্যন্ত গ্রেফতার হবে না। কিন্তু তার পরে ও গ্রেফতার হবেই।’’