মুম্বই: এই লকডাউনের বাজারেও সম্পদ হারানোর বদলে আরও ধনী হলেন‌ বিলিয়নিয়ার রামকৃষ্ণ দামানি যিনি নিয়ন্ত্রণ করেন অ্যাভিনিউ সুপার মার্টস, যার এই বছরে নিট সম্পদ ১১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০.৭ বিলিয়ন ডলার। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইন্ডেক্স ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারতের ১২ জন সবচেয়ে ধনীর অন্যতম এনার সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

করোনাভাইরাস আটকাতে লকডাউন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে যেভাবে দেশের মানুষ নানা রকম খাদ্য সামগ্রী মজুদ করতে লেগেছে তারই সুফল পেয়েছেন এই ব্যবসায়ীর সুপারমার্কেট চেন।ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজারি সংস্থা ক্রিসের ডিরেক্টর অরুণ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, এই লক ডাউনের সময় মানুষ যেভাবে আতঙ্কে জিনিসপত্র কিনে মজুদ করতে লেগেছে তাতে এই ধরনের সংস্থার বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে আবার সাইরাস পুনাওলা যিনি ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা , তিনি হলেন আর একজন ওই ১২জন সবচেয়ে ভারতীয় বিজনেস টাইকুনের যার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ২০২০তে। এই বিলিয়নিয়ার ইন্ডেক্স অনুসারে পুনাওলার নিট সম্পত্তি ২.৬ শতাংশ এই বছরে বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ৮.৯ বিলিয়ান ডলারে।

লকডাউন উঠলেও আতঙ্কে কেনার প্রবণতা কিছুটা প্রশমিত হলেও অ্যাভেনিউ সুপারমার্টসের ডি- মার্ট স্টোর্স‌ এর মতো এরকম ‘লো কষ্ট মডেল’ ভালোই অবস্থা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সুপার মার্কেট চেন ভালো আয় করবে কারণ গ্রাহকদের কাছে অন্য পণ্য নেবার মতো বিকল্প না থাকায়। তাছাড়া এই সময় ভেন্ডাররা তেমন দরাদরি করতে পারছে না আর বিজ্ঞাপন বাবদ এখন কোনও খরচই হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতেও ডি- মার্টের প্রতিযোগী সংস্থা তেমন সুবিধা করতে পারেনি। ফিউচার গ্রুপ যা দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ রিটেল চেন এবং দেশজুড়ে যার ১৩০০ স্টোর রয়েছে তার বিজ্ঞাপন বাবদ মোটা খরচের জন্য এই বছরের আয়৮০ শতাংশ নেমে গিয়েছে। অন্যদিকে বেড়েছে ঋণের বোঝা।

এই অ্যাভিনিউ সুপার মার্ট এবং দামানির রমরমা বজায় থাকবে ততদিন যতদিন ভারতের এইসব কনজিউমার গুডস এর সরবরাহ বজায় থাকবে। তবে পণ্যবাহী ট্রাক মাঝপথে থেমে গেলে এই সুপারমার্কেটের তাক গুলো তখন ফাঁকা হয়ে যাবে। ফলে এখন দামানি স্টোরের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল তাদের ট্রাকগুলো যেন সময় মত রিফিল করা।