গান্ধীনগর: কথায় বলে ‘মেয়েরা রাঁধে আবার চুলও বাঁধে’। তবে এই মেয়েরা হাতা খুন্তি বা সাজসজ্জায় মেতে সংসার সামলান না। এরা ঘর বিবাগী নন। রাসিলা, কিরণরা পশুরাজের দেখভাল করেন। তাও আবার তাদের আঁতুড়ঘর গির অরণ্যেই। গত এক দশক ধরে এই কাজটাই করে আসছেন এরা। সংসার, স্বামী, সন্তান সবই রয়েছে। তবু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁচিয়ে চলেছেন হিংস্র চারপেয়েদের জীবন।

২০০৭ সালের ঘটনা৷ তৎকালীন গুজরাত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এবার থেকে মহিলারা বন্য পশুদের সামলানোর কাজ করবে। প্রথমে ভাবা হয়েছিল  অফিসে বসে কাজেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন মহিলারা৷ সেই ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে দেন নিয়োগপ্রাপ্ত মহিলারা। রসিলা বধের নেতৃত্বেই এখন গির অরণ্যের আহত, অসুস্থ সিংহদের সারিয়ে তোলার কাজ চলে। এরাই ভারতের জঙ্গলে কাজ করা প্রথম মহিলা দল। কোনও সিংহ আহত হলে ডাক পড়ে সালনানের। প্রত্যেক দিনের কাজ শুরু হয় ভোরবেলা। দলবল নিয়ে সিংহ খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন রসিলা, কিরণ দর্শনা-রা। বছর ত্রিশের রসিলা এখনও পর্যন্ত ৮০০-র বেশী ‘lion oparation’ –এ কাজ করেছেন।


বছর দুয়েক আগের ঘটনা। প্রায় ১৫ দিন ধরে এক সিংহীর পিছনে ঘুরেছিলেন  দর্শনা কাগদা। গ্রামে ঢুকে সেই সিংহী কয়েকজনকে মেরেছিল৷ গ্রামবাসীরা বন দফতরে খবর দিয়ে সিংহীকে মেরে ফেলার আর্জি জানান৷ কিন্তু দর্শনা জানতেন সেই সিংহীর দুটি ছানা রয়েছে৷ তাদের দরকার মা৷  টানা ১৫ দিন খোঁজার পর দেখা মেলে হিংস্র সিংহীর। ঘুম পাড়ানি ওষুধের  নিখুঁত নিশানায় তাকে অবশ করে বাগে এনেছিলেন দর্শনা।

রসিলা, দর্শনাদের নিয়ে মোট সাত জনের একটা মহিলা দল সারাক্ষণ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারতীয় সিংহের বিচরণভূমি। বছরে সব সমেত ১২টি ছুটি। স্বামী সংসারের সঙ্গে দেখা হয়না বললেই চলে। স্পষ্ট জানিয়ে দেন তাঁরা এমন বন্য হয়েই থাকবেন। এখন গির অরণ্যই ওদের ঘর বাড়ি।

All rights reserved by @ Kolkata24x7 II প্রতিবেদনের কোন অংশ অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ