নয়াদিল্লি: সম্প্রতি অযোধ্যা মামলার রায়ে রাম মন্দির তৈরির সবুজ সংকেত মিলেছে। কিন্তু এই রাম মন্দিরের নকশা তিন দশক আগেই তৈরি করে রেখেছিলেন এক ব্যক্তি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নির্দেশে ওই মন্দিরের ডিজাইন তৈরি করেছিলেন তিনি। ১৯৮৯ তে নকশা তৈরি করেন। পরের বছর প্রয়াগে সাধু-সন্তরা সেই নকশায় সম্মতিও দেন।

আমেদাবাদের স্থপতি চন্দ্রকান্ত সোমপুরার কোনও আর্কিটেকচারের পুঁথিগত পড়াশোনা নেই। তবে, তিনি মন্দির তৈরিতে দক্ষ। বাস্তু শাস্ত্র মেনেই নাকি মন্দির তৈরি করেন তিনি। তিনি জানাচ্ছেন, বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু করলে তা শেষ হতে লাগবে আড়াই থেকে তিন বছর।

সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে সোমপুরা বলেন, এই রায়ের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, উভয়পক্ষের প্রতিই সুবিচার করা হয়েছে।

স্থাপত্যবিদ্যায় কোনও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেয় সোমপুরার। তার ছেলে আশিসের দাবি, সোমপুরার শিক্ষাগুরু ছিলেন তার পিতা, পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত স্থপতি প্রভাশঙ্কর। যার হাতে তৈরি হয় বিখ্যাত সোমনাথ মন্দির। আশিস জানান, ১৯৮৯ সালে প্রথম রাম মন্দিরের নকশা তৈরি করেন সোমপুরা এবং ছ’মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ করে ফেলেন মন্দিরের ডিজাইন।

জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় এতদিন ধরে মন্দিরের উপকরণ তৈরির কাজ চলছিল। মন্দিরের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ। তাঁর মতে, ২৪ থেকে ৩০ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে যাবে এই মন্দির। আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মন্দিরের গোলাপি স্যান্ডস্টোন আসছে রাজস্থানের বংশী পাহাড়পুর এলাকা থেকে। এই একই পাথর দিয়ে তৈরি হয় গুজরাতের অক্ষরধাম মন্দির। অনেকেই হয়তো জানেন না যে সোমপুরার হাতে তৈরি হয়েছে শতাধিক মন্দির, যাদের মধ্যে রয়েছে লন্ডনের নিসডেন এলাকার সুবিখ্যাত স্বামীনারায়ণ মন্দির, যা অনেকের মতে বিশ্বের বৃহত্তম মন্দির।

সোমপুরের ডিজাইন অনুযায়ী, মন্দিরের দৈর্ঘ্য হবে ২৭০ ফুট। ১৪৫ ফুট চওড়া ও ১৪১ ফুট উচ্চতার এই মন্দিরে থাকবে ২৫১টি পিলার।

৯ নভেম্বর (শনিবার) দেশটির প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ সর্বসম্মতির ভিত্তিতে বাবরি মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের আদেশ দেন।