লখনউ: মেরুটের গঙ্গানগর এলাকার একটি বাড়িতে জোরকদমে চলছে বিয়ের প্রস্তুতি৷ হঠাৎ বাড়িতে ঝড়ের বেগে ঢুকে পড়ল এক ব্যক্তি৷ কনেকে দেখামাত্রই পকেট থেকে বন্দুক বের করে সে৷ কনের মাথায় বন্দুক তাক করে গুলি ছোঁড়ে৷ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই তরুণী৷ মেঝে ভরে যায় রক্তে৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর৷

পুলিশ হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে৷ তার নাম দীপক৷ হত্যাকারীর বাবা উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কনস্টেবল৷ দীপকের পরিবার ওই মেয়েটির প্রতিবেশি৷ জানা গিয়েছে, মেরুটের উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে দরশিখা শর্মার প্রেমে পড়ে দীপক৷ বারবার তাঁকে প্রেমের প্রস্তাবও দেয়৷ কিন্তু প্রতিবারই তা ফিরিয়ে দিতেন এলএলএম পাঠরতা দরশিখা৷ প্রেমে প্রত্যাখাত হতে হতেই রাগের বশে এই কাণ্ড ঘটায় দীপক৷

আগামী ১৮ এপ্রিল বিয়ে হওয়ার কথা ছিল দরশিখার৷ বিয়ের প্রস্তুতিতে সকলেই ছিল ব্যস্ত৷ বাড়িতে লোকজন আসা শুরু করেছিল৷ সোমবার সকালে দ্রুত বেগে দরশিখার বাড়ি ঢুকে পড়ে দীপক৷ দরশিখাকে দেখতে পেয়ে গুলি ছুঁড়ে মারে৷ তাঁর বোন গুণিকাকেও খুন করতে যায়৷ কিন্তু মা এসে মেয়েকে বাঁচিয়ে দেন৷

এমন সময়ে উত্তরপ্রদেশে এই ঘটনা ঘটেছে যখন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যকে অপরাধ মুক্ত বলে ঘোষণা করেছেন৷ পরিসংখ্যান বলছে, গত তিনবছরে সবথেকে বেশি ধর্মীয় সংঘাতের মতো ঘটনা বেড়ে গিয়েছে৷ ২০১৫ সালে ঘটেছে ১৫৫টি ঘটনা৷ ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে যথাক্রমে ১৬২ ও ১৯৫টি ঘটনা৷ অপরাধমূলক ঘটনাতেও উত্তরপ্রদেশ এগিয়ে৷ ২০১৬ সালে গোটা দেশে জুড়ে ৩০ হাজার খুন হলে উত্তরপ্রদেশে তা ৪ হাজার ৮৮৯টি৷