স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: ঐতিহ্যবাহী ময়নাগড়ের রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে উৎসাহের পারদ ক্রমশ চড়ছে পূর্ব মেদিনীপুরে। জেলার প্রাচীন উৎসবের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন জেলার মানুষ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও লোক সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ময়নাগড়ের রাসমেলা এই বছর ৪৫৮ তম বর্ষে পদার্পণ করল। ময়নাগড়ের রাসমেলা জেলার সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহত্তম। এখানকার রাসের অন্যতম আকর্ষণ কার্তিক পূর্ণিমার মধ্যরাতে নৌ-রাসযাত্রা।

ময়নাগড়ের রাজপরিবারের গোবর্ধন বাহুবলীন্দ্র ১৫৬১ সালে কালিদহের তীরে কুলদেবতা শ্যামসুন্দর জিউর মন্দিরে প্রথম রাসমেলা শুরু করেন। সেই সময় দু’টি বৃহৎ পরিখা দিয়ে ঘেরা হয়েছিল মেলাটি৷ এরপর বাহুবলীন্দ্র পরিবারের উদ্যোগে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত মেলা অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭০ সাল থেকে স্থানীয় মেলা কমিটি অর্থাৎ হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্যোগে হয়ে আসছে। যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও লোক সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী।

ময়নাগড়ের রাস মেলার মূল আকর্ষণ সবংয়ের মাদুর শিল্পীদের তৈরি রকমারি মাদুর৷ চিনি দিয়ে তৈরি বিশালাকার বাতাসা ও বিখ্যাত মিষ্টি কদমা। এবারের মেলাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছেন বিক্রেতারা। মঙ্গলকাব্যের ধর্মমঙ্গলের কাহিনীতে উল্লেখ রয়েছে৷ রাজা লাউ সেনের রাজত্বের মধ্যে ছিল ময়নাগড়।

কাঁসাই নদীর পশ্চিম তীরবর্তী এই ময়নাগড় রাজপরিবারের উত্তরসুরী৷ বাহুবলীন্দ্র পরিবারের কুলদেবতা শ্যামসুন্দর জিউর রাসযাত্রা ঘিরে দীর্ঘ দিন ধরে মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। কয়েক বছর আগেই রাজ্য হেরিটেজ কমিশন ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দিয়েছে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা মেলা চলবে আগামী ১৫ দিন পর্যন্ত। হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয় এই মেলায়।