ছবি সৌজন্য: সোসাইটি ফর সোশ্যাল ফার্মাকোলজি৷

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: ওষুধ আসলে কী? ওষুধের রাসায়নিক নাম বলতে কী বোঝায়? ওষুধ কীভাবে প্রকৃতিতে এল? কীভাবে-ই-বা ওষুধ কাজ করে? শুধুমাত্র আবার এ সব-ও নয়৷ কারণ, কীভাবে বোঝা যাবে কোন ওষুধ অকেজো অথবা অযৌক্তিক, আর কোন ওষুধ-ই-বা নিষিদ্ধ?

আর, তাই, ওষুধ সংক্রান্ত এমনই বিভিন্ন বিষয়ে স্কুলের পড়ুয়াদের সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছে সোসাইটি ফর সোশ্যাল ফার্মাকোলজি৷ তবে, ওষুধবিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শুধুমাত্র এই সংগঠন-ও নয়৷ কেননা, এই সংগঠনের এমন উদ্যোগের বাস্তব রূপায়ণে সহায়তা করছেন আবার রুরাল মেডিকেল প্র্যাকটিসনার্স অ্যাসোসিয়েশন (আরএমপিএ)-এর সদস্যরাও৷ যাঁরা সাধারণত গ্রামীণ চিকিৎসক নামে পরিচিত৷

আরও পড়ুন: দাভোলকর-পথে কুসংস্কারের ক্রম মুক্তি হবে বাংলায়!

কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ওষুধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক তথা সোসাইটি ফর সোশ্যাল ফার্মাকোলজির সংগঠক, ডাক্তার স্বপনকুমার জানার কথায়, ‘‘যত দিন না নবম-দশম শ্রেণির সিলেবাসে ওষুধবিজ্ঞান বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, তত দিন আমরা এ ভাবে স্কুলে স্কুলে ওষুধবিজ্ঞানের বিষয়ে পড়ুয়াদের সচেতন করার প্রক্রিয়া জারি রাখব৷’’ নবম-দশম শ্রেণিতে যাতে ওষুধবিজ্ঞান পড়ানো হয়, তার জন্য শিক্ষা দফতরে তাঁরা আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছেন৷ স্কুলের পড়ুয়াদের ওষুধবিজ্ঞান পড়ানোর উদ্যোগ অবশ্য বেশ কয়েক বছর আগেই গ্রহণ করেছে সোসাইটি ফর সোশ্যাল ফার্মাকোলজি৷ আর, তার জেরেই, এখনও পর্যন্ত হুগলি জেলার ১০টি স্কুলের নবম, দশম, একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ওষুধবিজ্ঞানের পাঠ দেওয়ার সুযোগ করে নিয়েছে এই সংগঠন৷

আরও পড়ুন: ৪.৫ কোটি ভুক্তভোগীতেও চাপা পড়ে যাবে সারদাকাণ্ড!

২০০৮-এ হুগলির খানাকুল ব্লকের বালিপুর গ্রামের মেলাতলা স্কুলের পড়ুয়াদের প্রথম ওষুধবিজ্ঞান পড়িয়েছিল সোসাইটি ফর সোশ্যাল ফার্মাকোলজি৷ তবে, এখনও পর্যন্ত যেমন হুগলির বাইরে এ রাজ্যের অন্য কোনও জেলার স্কুলে ওষুধবিজ্ঞান পড়ানোর সুযোগ পায়নি এই সংগঠন৷ তেমনই, হুগলির ওই ১০টি স্কুলেও বছরভর ওষুধবিজ্ঞান পড়ানো সম্ভব হয় না৷ এর কারণ হিসেবে ডাক্তার স্বপনকুমার জানা জানিয়েছেন, ওষুধবিজ্ঞান বিষয়টি যেহেতু সিলেবাসে নেই, তাই এখনও পর্যন্ত সাধারণত পরীক্ষার শেষেই পড়ানোর ব্যবস্থা হচ্ছে৷ তার জন্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট স্কুলের কর্তৃপক্ষকে রাজি করানোর বিষয়টিও রয়েছে৷ তবে, যত দিন না নবম-দশম শ্রেণির সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, তত দিন যাতে হুগলির বাইরে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলার বিভিন্ন স্কুলেও এখনকার মতোই ওষুধবিজ্ঞান পড়ানো যায়, তার জন্য চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন৷

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

ওষুধবিজ্ঞান বিষয়টি কেন সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করছে সোসাইটি ফর সোশ্যাল ফার্মাকোলজি? ডাক্তার স্বপনকুমার জানা জানিয়েছেন, রোগনির্ণয়ের পরে ওষুধের ব্যবহারের বিষয়ে আগে যেভাবে রোগী এবং তাঁর পরিজনদের সহায়তা করতে দেখা যেত চিকিৎসকদের, এখন সাধারণত তেমন আর দেখা যায় না৷ তার উপর, অকেজো অথবা অযৌক্তিক এবং নিষিদ্ধ ওষুধের বিষয়েও রোগী এবং তাঁদের পরিজনদের সচেতন হওয়া জরুরি৷ যে কারণে, অংক, রসায়ন, পদার্থ, জীবন, ইতিহাস, ভূগোল সহ অন্যান্য বিষয়ের মতো ওষুধবিজ্ঞানও সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন৷ ওষুধবিজ্ঞানের বিষয়ে নবম-দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের সহজে বোঝানো সম্ভবও হবে৷ শুধুমাত্র এ সব-ও আবার নয়৷

আরও পড়ুন: ‘চিকিৎসায় উন্নয়নের নামে ভাঁওতা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী’

ডাক্তার স্বপনকুমার জানা বলেন, ‘‘নবম-দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের সচেতন করে তোলার মাধ্যমে একই সঙ্গে রোগী এবং তাঁদের পরিজনদেরও সচেতন করার কাজটি সম্পন্ন হবে৷ আর, এটা সম্ভব হলে আবার ওষুধের অসাধু কারবার তথা অকেজো অথবা অযৌক্তিক এবং নিষিদ্ধ ওষুধের ব্যবহার বন্ধের জন্য জনমত গড়ে তোলাও সম্ভব হবে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ওষুধ কীভাবে কাজ করে, সেই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভ্রান্ত ধারণাও রয়েছে৷ নবম-দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের আমরা বিভিন্ন মডেলের মাধ্যমে ওষুধবিজ্ঞানের নীতিমালা বোঝাচ্ছি৷ ওষুধ কী, ওষুধ কীভাবে কাজ করে, কোন ধরনের সমস্যার জন্য কোন ওষুধ কত দিন খেতে হবে অথবা কোনও দিন বন্ধ করা যাবে না, এমন বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজটি অত্যন্ত জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ৷’’

________________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) সন্তানের পরিচয় জানাতে প্রথমেই আসুক মায়ের নাম!
(০২) ‘সরকারি মিথ্যা প্রচারে আক্রান্ত হচ্ছেন ডাক্তার-নার্সরা’
(০৩) যত দিন কুসংস্কার থাকবে তিনি মঙ্গলসূত্র পরবেন
(০৪) ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয় অ্যাজমার ভ্যাকসিন’
(০৫) ডেঙ্গি ঢাকতে বাড়ি পাঠানো হয়েছে ডাক্তারি পড়ুয়াকে!
(০৬) বিশ্বাসযোগ্যর নামে ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা!
(০৭) ভালো বাসা-র তুলনায় ইলিশ যে বেশি ভালোবাসার!
(০৮) অভিনেত্রীর চিকেন পক্স, আপনি কীভাবে এড়াবেন?
(০৯) পূর্ব ভারতের বিরল নজিরে রক্ষা পেল কিশোরীর প্রাণ
(১০) মুমূর্ষুর প্রাণরক্ষায় ক্যাসুয়ালটি ব্লক চাইছেন ডাক্তাররা
(১১) ‘বৈপ্লবিক উন্নয়নে’র পিজি-তেও ভরসা নেই সরকারের!

________________________________________________________________