স্টাফ রিপোর্টার, রায়গঞ্জ: কর্তব্যের গাফিলতির অভিযোগে ১০ জন চিকিত্সকের বেতন বন্ধের নির্দেশ দিল উত্তর দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্য দফতর।

অভিযোগ, এই ১০ চিকিত্সক দীর্ঘদিন ধরে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল-সহ অন্যান্য হাসপাতালগুলিতে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে রোগীরা চিকিত্সা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।

আরও পড়ুন: রোগমুক্তির আশায় ভাত কাড়াকাড়ি বাঁকুড়ার গ্রামে

চিকিত্সকেরা হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকলেও শহরে চুটিয়ে করছেন প্রাইভেট প্র‌্যাকটিস এবং বেসরকারি নার্সিংহোমগুলিতে চিকিত্সা করতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ। রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ কেসি বন্দ্যোপাধ্যায় ৪ বছরের ছুটি চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন স্বাস্থ্য দফতরে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আবু সিদ্দিক ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে বদলির নির্দেশ পেয়েই উচ্চ শিক্ষার জন্য তিন বছরের ছুটির আবেদন করেছেন।

ইটাহার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিত্সক বিশ্বজিৎ দাস কোনও কারণ না দেখিয়ে সেখানে যোগদান করছেন না। রায়গঞ্জ সুপার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দ্বীপ সরকারকে চাকুলিয়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি করা হলেও তিনি এখনও সেখানে যোগদান করেননি। রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মীর রাসেন আলি করণদিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে বদলি হলেও তিনি সেখানে যোগদেননি বলে অভিযোগ। আর এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এনসি পাল, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ উত্পল পাঁজা এবং স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় সরকার দীর্ঘদিন ধরে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অনুপস্থিত রয়েছেন।

আরও পড়ুন: উচ্চ মাধ্যমিকে প্রশ্ন ফাঁসে তদন্তের নির্দেশ

অন্যদিকে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিত্সক সুশীল বিশ্বাস, মলয় সাহা, চিকিত্সক টিকে ঘোষকে অন্যত্র বদলি করা হলেও তারা কেউ কাজে এখনও যোগ দেননি। এর আগেও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ধীমান পাল, অস্থিরোগ বিশেষেজ্ঞ অনিন্দ্য সরকার, শল্য চিকিত্সক কালীশংকর ভট্টাচার্য-সহ একাধিক চিকিত্সককে বদলি করায় তারা চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল-সহ জেলার একাধিক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিত্সক না থাকায় রোগীরা চিকিত্সা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই জেলায় কর্মরত একাধিক চিকিত্সক দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনুপস্থিত থাকায় তাদের জীবনপঞ্জী নথিভুক্তির জন্য ফর্ম ফিলআপ করে জমা করতে পারেনি।

আরও পড়ুন: ‘রাম কা নাম বদনাম না করো…’ দুখু মিঞার শহর চায় শান্তি

রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালের সুপার গৌতমকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, যে সমস্ত চিকিত্সক দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে আসছেন না তাদের বেতন কাটার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং একাধিক চিকিত্সককে শোকজ করা হয়েছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রকাশ কুমার মৃধা জানিয়েছেন, যে সমস্ত চিকিত্সক দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন তাদের বেতন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।