কলকাতা: স্বাস্থ্য কমিশনের হস্তক্ষেপে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বিল কমাল মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল৷ বুধবার কমিশনের মেসেজ যাওয়ার পরই রিভিউ করে বেসরকারি হাসপাতাল জানিয়ে দেয়, মোট বিল থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি কমাানো হয়েছে৷

অভিযোগ,করোনা আক্রান্ত এক চিকিৎসকের মৃত্যুর পর মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল বিল করেছিল প্রায় ১৯ লাখ টাকা৷ এই ঘটানায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছিল৷ বুধবার রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান অসীম বন্দোপাধ্যায় টেক্সট মেসেজ করে বিল রিভিউ করার নির্দেশ দেন৷

মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরের চিকিৎসক প্রদীপ ভট্টাচার্যের করোনা চিকিৎসায় মোট বিল হয় ১৮ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯৫২ টাকা। এর মধ্যে ওষুধের বিল ৬ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা৷ বিমা কোম্পানি (টিপিএ) দিয়েছে ৩ লক্ষ টাকা৷ চিকিৎসকের পরিবার হাসপাতালকে দেয় ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা৷ সেই মোট বিল থেকে এবার ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মেডিকা৷

স্বাস্থ্য কমিশনের আবেদনের পর বৃহস্পতিবার ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বিল কমাল মেডিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ শ্যামনগরের চিকিৎসক প্রদীপ ভট্টাচার্যের করোনা চিকিৎসায় প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা বিল হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেখে তৎপর হয় স্বাস্থ্য কমিশন। বিল রিভিউ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান৷ তারপরই নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ একদিনের মধ্যে কমে গেল সাড়ে তিন লাখের বেশি বিলের টাকা৷

করোনা আক্রান্ত হয়ে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন চিকিৎসক প্রদীপ ভট্টাচার্য৷ যদিও শেষ পর্যন্ত করোনার কাছে তিনি হার মানলেন৷ তারপর ওই বেসরকারি হাসপতাল পরিবারের হাতে চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচের বিল ধরাল প্রায় ১৯ লাখ টাকার৷ বিষয়টি রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের নজরে আসতেই ওই বিল রিভিউ করার নির্দেশ দেয়৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কমিশনকে জানিয়েছে, তাঁরা বিলটি রিভিউ করছেন এবং যথাযথ ব্যবস্থাও নেবেন৷

স্বাস্থ্য কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার ওই বেসরকারি হাসপাতালে কমিশন টেক্সট মেসেজ করেন৷ সেখানে হাসপাতালকে করোনা আক্রান্ত মৃত চিকিৎসকের আকাশছোঁয়া বিল ফের রিভিউ করে দেখার কথা বলা হয়৷ এমন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিল পুনরায় বিবেচনা করে কমানোর নির্দেশ রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনে এই প্রথম৷

উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বাসিন্দা তথা জনপ্রিয় চিকিৎসক প্রদীপ ভট্টাচার্য৷ করোনা আক্রান্ত হয়ে তিন চিকিৎসাধীন ছিলেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে৷ গত সোমবার দুপুরে ওই হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়৷ অভিযোগ,তার পরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত চিকিৎসকের পরিবারের হাতে প্রায় ১৯ লাখ টাকার বিল ধরান৷ বিশাল অঙ্কের এই বিল নিয়ে সরব হয় একাধিক চিকিৎসক সংগঠন এবং চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ৷ বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তোলপাড় হয়৷ নজরে আসে রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনেরও।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও