স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আসন্ন কলকাতা সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কালো পতাকা দেখানোর কর্মসূচী নিয়েছে সিপিএমের ছাত্র-যুবরা। ওই কর্মসূচিতে দলমত নির্বিশেষে ছাত্রসমাজ সামিল হওয়ার আহ্বান জানালেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম।

অনেক টালবাহনার পর কলকাতার শহিদ মিনারে আগামী ১ মার্চ অমিত শাহের সভার মৌখিক অনুমতি পেয়েছে বিজেপি। তাঁকে ওইদিন সিএএ নিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বিজেপির তরফ থেকে।সঙ্গে থাকার কথা জেপি নাড্ডারও৷ কলকাতায় শহিদ মিনারের সভায় এক লাখের জমায়েতের সম্ভাবনা দেখছেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ওই দিন তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর পরিকল্পনা বাম ছাত্র-যুবদের। বুধবার এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেছিলেন,”কালো পতাকা দেখিয়ে দাঙ্গাবাজ অমিত শাহকে স্বাগত জানাব। ওনাকে কলকাতায় এলে ভয়ে থাকতে হবে। কলকাতার মাটিতে অমিত শাহ ধর্মের বীজ পুঁততে দেব না।” একই সুরে ডিওয়াইএফআই-এর রাজ‍্যসম্পাদক সায়নদীপ মিত্রও বলেছেন, ”দিল্লিতে শান্তির বার্তা নিয়ে এবং কাজের দাবিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি যাচ্ছে ডিওয়াইএফআই-এর পশ্চিমবঙ্গ কমিটি। দিল্লির আগুন নেভাতে যাচ্ছি আমরা। পুলিশ আটকাতে পারবে না। নরেন্দ্র মোদিকে যেভাবে বাংলায় স্বাগত জানানো হয়েছিল, সেই ভাষাতেই অমিত শাহকে স্বাগত জানানো হবে।”

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে কলকাতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই দিন শহরের রাস্তায় ব্যানার, পোস্টার, কালো পতাকা নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়েছিলেন বাম ও অতিবাম ছাত্ররা। ওই ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে বৃহস্পতিবার মহম্মদ সেলিম বলেন,”জানুয়ারি মাসেই দেখেছিলাম উত্তাল হয়েছিল কলকাতা। অন্যায়, অত্যাচার ও বিভাজনের বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার হয়েছে বাংলা। এবারও হবে।”

তবে বিক্ষোভে শুধু সিপিএম কর্মীদের নয়, গোটা ছাত্র সমাজকে সামিল হওয়ার আহ্বান করেছেন সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য সেলিম। তিনি বলেন, ”দিদিকে বলোতে বলে লাভ নেই। দিদি কিছু বলবেন না। পক্ষ নিতে হবে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এনিয়ে চিন্তিত নন। নিজের অবস্থান বাঁচাতে ব্যস্ত উনি। সাধারণ মানুষকে পক্ষ নিতে হবে। ছাত্র সংগঠনগুলি কো-অর্ডিনেট করবে। কোনও রাজনৈতিক দল বা সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ নয় এটা। কলকাতাকে রক্ষা করতে হবে। বিহারের নির্বাচনের আগে ঘৃণার হুঙ্কার আরও বাড়বে।”

বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীর প্রশ্ন,”দেশজুড়ে সিএএ-র প্রবল বিরোধিতা চলছে, তখন কী করে শাহের সংবর্ধনা-সভার অনুমোদন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সুজনবাবুর দাবি, এই ঘটনাই প্রমাণ করে মোদী-দিদি যোগসাজশ রয়েছে। সেকারণেই এরকম একটা পরিস্থিতিতে শাহকে শহিদ মিনারে সভা করার অনুমতি দেওয়া হল। মমতাকে খোঁচা দিয়ে এই বাম নেতা বলেন,দেশবাসীর শান্তি কামনায় নয়,অমিত শাহকে পুজো দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”