স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এসএসকেএম হাসপাতালে কুকুরের ডায়ালিসিসের ঘটনায় তৃণমূল নেতা নির্মল মাজিকে সতর্ক করল মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। একই সঙ্গে ওই ঘটনার জন্য ভর্ৎসনাও করা হয়েছে নির্মল মাজি, তৎকালীন হাসপাতাল সুপার প্রদীপ মিত্র এবং নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান রাজেন পাণ্ডেকে৷

২০১৫ সালে এসএসকেএমে ‘ভিআইপি’ কুকুরের ডায়ালিসিস করানোর চেষ্টার খবর সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হতেই রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তুমুল বিতর্ক৷ নাম জড়ায় শাসক দলের নেতা তথা বর্তমান রাজ্যের মন্ত্রী নির্মল মাজির। জানা গিয়েছিল, কুকুরটি ছিল তৃণমূলের চিকিত্সক সংগঠনের নেতা নির্মল মাজির আত্মীয়ের। এই ঘটনায় কাঠগড়ায় তোলা হয় এসএসকেএমের অধিকর্তা পরে শিক্ষা স্বাস্থ্য অধিকর্তা প্রদীপ মিত্রকেও৷ কারণ, জানা গিয়েছিল, হাসপাতালের অধিকর্তা অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন। বিভাগীয় প্রধানও নির্দেশ পাঠিয়েছিলেন বিভাগীয় চিকিৎসকদের কাছে। কিন্তু জানাজানি হতেই আটকে যায় বিষয়টি। পরে সেই পোষ্যটি মারাও যায় বলে খবর।

এসএসকেএম হাসপাতালে সাধারণ মানুষকে ডায়ালিসিসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে কুকুরের ডায়ালিসিসের উদ্যোগের বিরুদ্ধে উঠে নিন্দার ঝড়। দায়ের হয় একাধিক মামলা দায়ের হয়।রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল মামলাতে তথ্য খুঁজে পায়নি। কলকাতা হাইকোর্ট ও এমসিআই-এর কাছে অভিযোগ দায়ের করেন প্রবাসী চিকিৎসক কুণাল সাহা।

সেইসময় নির্মল মাজি বলেছিলেন, “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। কুকুরটা খুব সুন্দর, ছটফটে। তিন মাস ধরে কষ্ট পাচ্ছিল। তাই এসএসকেএমের একটা হেল্প নিতে চেয়েছিলাম।’’ তৎকালীন নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান তথা বর্তমান রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজেন পাণ্ডে বলেছিলেন, “‘একটা কুকুরের ডায়ালিসিসের অনুরোধ এসেছিল। তাতে হয়েছেটা কী? মানুষ ও কুকুর, উভয়েই স্তন্যপায়ী গোষ্ঠীর প্রাণী। দু’জনের ডায়ালিসিস একই ধরনের মেশিনে হতে পারে।’’

কিন্তু চার বছর পর ভর্ৎসিত হতে হল নির্মল মাজি, তৎকালীন হাসপাতাল সুপার প্রদীপ মিত্র এবং নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান রাজেন পাণ্ডেকে। অভিযুক্তদের ভর্ৎসনা ও সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে। ঘটনাটি নিন্দনীয়। এবিষয়ে নির্মল মাজির বক্তব্য,”অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। কলকাতা হাইকোর্টে আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছে মামলা। এমন কোনও চিঠি পাইনি।”