দুবাই: ৩৭ বছর পর টিম ইন্ডিয়ার মেলবোর্ন টেস্ট জয় ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়৷ এমসিজি-র বাইশ গজে অজিদের ১৩৭ রানে হারিয়ে চার টেস্টের সিরিজে ২-১ এগিয়ে গিয়েছে কোহলি অ্যান্ড কোং৷ এমসিজি-তে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় টেস্টের পিচকে অ্যাভারেজ অ্যাখ্যা দিল আইসিসি৷ অর্থাৎ পারথের পর মেলবোর্নের পিচও আইসিসি-র গুডবুকে জায়গা হল না৷

পারথের নতুন স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের পিচও বিতর্কের উর্ধ্বে ছিল না৷ অমসৃণ বাউন্সি পিচে ব্যাট করা মোটেই সহজ ছিল না৷ কঠিন পিচেও বিরাটের লড়াকু সেঞ্চুরি ভারতকে বাঁচাতে পারেনি৷ দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া৷ পারথের বাইশ গজও আইসিসি-র গুডবুকে ছিল না৷ পারথের অপটাস স্টেডিয়ামের পিচকে অ্যাভারেজ অ্যাখ্যা দিয়েছিল বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা৷

বক্সিং ডে টেস্ট জিতে ভারত সিরিজে এগিয়ে গেলেও মেলবোর্নের পিচকে অ্যাভারেজ রেটিং দেয় আইসিসি৷ এমসিজি-র বাইশ গজে প্রথম ইনিংসে ভারত দারুণ ব্যাটিং করলেও বোলারদেরই স্বর্গরাজ্য ছিল৷ সাত উইকেটে ভারতের ৪৪৩ রানের জবাবে ১৫১ রানে শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস৷ কঠিন পিচে ভারতীয় ইনিংসে পরিত্রাতা হয় উঠেছিলেন চেতেশ্বর পূজারা৷ তাঁকে সঙ্গ দেন ভারত অধিনায়ক কোহলির ব্যাট৷ পূজারার ১০৬ রানের পাশাপাশি বিরাটের ধৈর্যশীল ৮২ রানের ইনিংস ভারতকে বডার-গাভাস্কর ট্রফি ধরে রাখতে সাহায্য করে৷

দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতও এই পিচে ৮ উইকেটে ১০৬ রান তোলে৷ অজিদের সামনে ৩৯৯ রানের টার্গেট দিয়েছিল বিরাটবাহিনী৷ কিন্তু ২৬১ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতী ইনিংস৷ জসপ্রীত বুমরাহ ও রবীন্দ্র জাদেজার সাড়াশি আক্রমণে লক্ষ্য থেকে ১৩৭ রান দূরে থেমে যায় পেইনবাহিনী৷ বক্সিং ডে টেস্ট জিতে ইতিহাসের সামনে ভারত৷ বৃহস্পতিবার থেকে সিডনিতে সিরিজের চতুর্থ তথা শেষ টেস্ট ড্র করতে পারলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে ভারত৷ অ্যাডিলেড ওভালে সিরজের প্রথম টেস্ট জিতে দারুণ শুরু করে কোহলি অ্যান্ড কোং৷ পারথে হরালেও মেলবোর্নে জিতে ইতিহাস সৃষ্টির পথে টিম ইন্ডিয়া৷

অ্যাভারেজ রেটিংয়ের ফলে তিন পয়েন্ট ডিমেরিটস হয়৷ গত বছর অ্যাশেজের পিচ থেকে অবশ্য তিন পয়েন্ট অর্জন করেছিল এমসিজি৷ নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছরে পাঁচ ডিমেরিটস পয়েন্ট হলে আন্তর্জাতিক তকমা হারায় ওই স্টেডিয়াম৷ ফলে ভারত-অস্ট্রেলিয়া বক্সিং ডে টেস্ট আয়োজন করে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে চলে গেল বিশ্বসেরা এই স্টেডিয়াম৷