কলকাতা: বৃহস্পতিবার দিনটা ছিল ময়দানের দুই বড় ক্লাবের ভালো-মন্দ মেশানো৷ কল্যাণীতে এরিয়ানের কাছে হেরে গেল মোহনবাগান৷ কিন্তু ঘরের মাঠে কালীঘাট এমএস-এর বিরুদ্ধে জয় পেল ইস্টবেঙ্গল৷

এরিয়ানের বিরুদ্ধে নামার আগে ছেলেদের নিয়ে একটুই বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বাগানের স্প্যানিশ কোচ কিবু ভিকুনা৷ প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক বৈঠকে সবুজ-মেরুন কোচ বলেছিলেন, মোহনবাগানই তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। কিন্তু বৃহস্পতিবার অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হেরে গেল ভিকুনার দল৷

কল্যাণীতে এদিন ২-১ ব্যবধানে মোহনবাগানকে হারিয়ে দিল এরিয়ান। প্রথমার্ধে ম্যাচ গোল শূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোল হয়৷ প্রথমে জোড়া গোল করে জয়ের রাস্তা তৈরি করে ফেলেছিলেন এরিয়ান ফুটবলাররা৷ শেষ মুহূর্তে মোহনবাগান একটি গোল দিয়ে ব্যবধান কমালেও ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি৷

৬৩ মিনিটে কুটির পাস থেকে এমা এগিয়ে দেন এরিয়ানকে। ৮০ মিনিটে সন্দীপ ওঁরাও এরিয়ানের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন৷ ম্যাচের অন্তিমলগ্নে অর্থাৎ ৮৯ মিনিটে শুভ ঘোষ হেড থেকে ব্যবধান কমায় বাগান। এদিন হেরে কলকাতা লিগে পাঁচ নম্বরে চলে গেল মোহনবাগান। ৭ ম্যাচে বাগানের পয়েন্ট ১১ পয়েন্ট।

মোহনবাগান হারলেও জয়ে ফিরল ইস্টবেঙ্গল৷ আগের ম্যাচে ঘরের মাঠে পিয়ারলেসের কাছে হেরেছিল লাল-হলুদ৷ এদিন অবশ্য কোলাডোর জোড়া গোলে জয়ের স্বাদ পেল পদ্মাপাড়ের ক্লাব৷ কালীঘাট এমএস-কে ৪-২ গোলে হারায় ইস্টবেঙ্গল৷ এদিন সকাল থেকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে ইস্টবেঙ্গল মাঠ ছিল কর্দমাক্ত। তাতেই ম্যাচে ছ’টা গোল হল।

যদিও কালীঘাটই তুহিন সিকদারের গোলে প্রথমে এগিয়ে যায়। ম্যাচে সমতা ফেরার জন্য ইস্টবেঙ্গলকে অপেক্ষা করতে হয় ৪১ মিনিট। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য লাল-হলুদ আক্রমণ ঝাঁঝাল হয়৷ ৫৯ মিনিটে কালীঘাটে পিন্টু মাহাতো সেমসাইড গোল করে বসেন। ফলে সমতায় ফেরে লাল-হলুদ৷ তারপর কোলাডোর গোলে ব্যবধান বাড়ায় আলেজান্দ্রোর দল।

৮২ মিনিটে কালীঘাটের হয়ে ব্যবধান কমান রাকেশ পাসোয়ান। এর পরেই গোলকিপারকে পরাস্ত করে দলের চতুর্থ ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কোলাডো। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়েন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। তবে ময়দানের দুই বড় ক্লাবকে পিছনে ফেলে লিগে শীর্ষস্থান ধরে রাখল পিয়ারলেস৷ তাদের পয়েন্ট ৬ ম্যাচে ১৩৷ সাত ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভবানীপুর৷ আর ৭ ম্যাচে সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল৷ পয়েন্ট সমান হলেও গোল পার্থক্যে ভবানীপুরের থেকে পিছিয়ে রয়েছে লাল-হলুদ৷