সুশান্ত মণ্ডল: টানা দু’ মরশুমে জাতীয় ট্রফি জেতার পর ক্লাব কর্তা ও সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল৷ সঞ্জয় সেনের হাত ধরে বাগানে ট্রফির হ্যাটট্রিক হবে, এমনটা ধরেই নিয়েছিলেন মোহন সমর্থকরা৷ কিন্তু কটকে রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় প্রত্যাশার পারদ একেবারে চুপসে গেল৷ আই লিগের পর ফেড কাপও হাতছাড়া হওয়ায় বাগানে নেমে এল হঠাৎ অন্ধকার৷ কিন্তু কেন এমন হল? আই লিগে নবাগত আইজল এফসি-র কাছে খেতাব হারানো৷ আর ফেড কাপ ফাইনালে দু’দিন আগেই যাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে এএফসি কাপে জয়ে পেয়েছে, বেঙ্গালুরু এফসি-র কাছে হার মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই৷ ফলে যে সঞ্জয় সেন দীর্ঘ ১৩ বছর পর বাগানে সুবাস এনেছিলেন তিনিই এখন ‘আবর্জনা’! তাঁকে ছুঁড়ে ফেলার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল৷ মঙ্গলবাল ক্লাবের কর্ম সমিতির বৈঠকেও ঠিক হতে পারে সঞ্জয়ের ভাগ্য৷ তাহলে কি বাগানে ধ্বংস হবে ‘সেন বংশ’?

২০১৪-র মাঝামাঝি সময়ে মোহনবাগানের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সঞ্জয় সেন৷ পরের বছরই সবুজ-মেরুনকে আই লিগ দিয়ে মিরাক্যাল গঠান এই বাঙালি কোচ৷ এক যুগের বেশি সময় পর জাতীয় লিগ জয়ের আনন্দে বাগানে ফেরে বসন্ত৷ আই লিগ জয় যে অঘটন ছিল না, পরের বছর ফেড কাপ জিতে অর্থাৎ ফের ভারতসেরা হয়ে প্রমাণ করে দিলেছিল সেন স্যারের ছেলেরা৷ আট বছর গত বছর ফেড কাপ জেতে মোহনবাগান৷ কিন্তু এবার যে ট্রফি হারা বাগান৷ আই লিগ-এর পর ফেড কাপেও ‘সেকেন্ড বয়’ সবুজ-মেরুন৷

আই লিগ হাতছাড়া হলেও ফেড কাপ ফাইনালে বেঙ্গালুরু এফসি-র কাছে হারের জন্য কোচ সঞ্জয়ের ট্র্যাটেজিকেই দায়ী করছেন অনেকেই৷ ব্যর্থতার দায় নিজেও স্বীকার করে নেন বাঙালি কোচ৷ তিনিও বাগানের সঙ্গে মধুচন্দ্রিমা শেষ করতে চান৷ সঞ্জয়কে নিয়ে বাগান কর্তারা এখনও মুখে কলুপ এঁটে থাকলেও ট্রফি না-আসায় হতাশ সকলেই৷ ১৪-১৫ কোটির দল গড়েও জাতীয় স্তরের দু’টি টুর্নামেন্ট থেকে খালি হাতে ফিরেছে বাগান৷ ট্রফি না-এলেও মরশুমে দু-দু‘বার ডার্বি জেতায় এখনই হয়তো চাকরি যাচ্ছে না সঞ্জয়ের৷ কিন্তু কলকাতা লিগ পর্যন্ত তাঁকেই রেখে দিতে পারেন বাগান কর্তারা৷ কলকাতা নিগে খেতাব এলে নতুন মরশুমের জন্য ফের নতুন করে শুরু হতে পারে বাগানে ‘সেন বংশ’৷