নিবেদিতা দে, কলকাতা: একসময় দিদির অতি প্রিয় ভাই হিসেবেই দলে পরিচিতি ছিল তাঁর৷ কিন্তু আজ ২১ জুলাইয়ের মহা সামবেশের দিন মঞ্চে দেখা গেল না তাঁকে৷ তিনি কলকাতা পুরসভার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ এদিন দিদির পাশে দলের অন্যান্য নেতৃত্বের উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকলেও দেখা যায়নি শোভনকে৷ মেয়রের বৈশাখী কেলেঙ্কারীর কথা প্রকাশ্যে আসায় শোভনের প্রতি ক্ষুব্ধ হন নেত্রী৷

আর তার শাস্তি স্বরূপই দলের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে মঞ্চে শোভনকে দেখা যায়নি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ এদিন শোভনবাবু মঞ্চের নীচের চেয়ারে বসেই দিদির সভা শোনেন৷

সম্প্রতি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক অধ্যাপক মহিলার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ে মেয়রের৷ বৈশাখীকে নিয়ে দাম্পত্য কলহে জড়িয়ে পড়েন শোভন ও তাঁর পত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়৷ দাম্পত্য কলহ গড়ায় ডিভোর্স মামলা পর্যন্ত৷ মেয়রের এই পারিবারিক ঝামেলায় দলও যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়ে৷ খোদ মুখ্যমন্ত্রী মেয়র জায়া রত্নাকে ঝামেলা মিটিয়ে নিতে অনুরোধ জানান৷

কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি৷ ঝামেলা গড়ায় কোর্টে৷ মেয়রকেও বার্তা দেন নেত্রী৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও বান্ধবী বৈশাখীকে ছাড়েননি মেয়র৷ এই ঝামেলার পর থেকেই দলের সঙ্গে একটা দুরত্ব বজায় রেখে চলছিলেন মেয়র৷ এদিন একুশের মঞ্চে তা আরও স্পষ্ট হল৷

প্রতিবারই দিদির এই প্রিয় ভাই মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে দিদির পাশেই দেখা যায়৷ প্রতিবছর একুশের মঞ্চে বক্তব্যও রাখেন তিনি৷ কিন্তু এবছরই প্রথম এর অন্যথা হল৷ তবে কি দিদির কোপে পড়েছেন মেয়র? তৃণমূলের এক নেতার কথায়, ‘‘তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে নীচে চলে যান৷’’ তবে শুধু ২১ জুলাই নয়, ইদানিং দলের কোনও কর্মসূচীতেই দেখা যায় না তৃণমূলের এই পুরোনো সৈনিককে৷

মঞ্চে মেয়রের জায়গা না হলেও, একুশের মঞ্চে দেখা গেছে সারদাকাণ্ডে অভিযুক্ত মদন মিত্রকে৷ সারদা মামলায় দীর্ঘদিন জেল হেফাজতে ছিলেন তিনি৷ মদন মিত্রের পাশে দেখা গেছে রোজভ্যালিকাণ্ডে অভিযুক্ত তাপস পালকেও৷ তিনিও কিন্তু দির্ঘদিন জেল হেফাজতে কাটান৷ যদিও মদন মিত্রের ক্ষেত্রে বিষয়টা খানিকটা হলেও অন্যরকম সেকথা স্বীকার করছে দল৷ কারণ ইদানিং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলের একজন প্রধান কাণ্ডারী হয়ে উঠছেন মদন মিত্র৷ দলের অন্দরের খবর, মুকুল রায়ের জায়গায় আগামী লোকসভা ভোটে মদন মিত্রকেই প্রজেক্ট করছে তৃণমূল৷ আর তাই তৃণমূলের হয়ে জেলায় জেলায় গিয়ে সভা মিটিং করেছেন তিনি৷