স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নিজে প্রার্থী হয়ে লড়াই করবেন আগামী বছরে৷ সেটা অবশ্য তৃণমূলের কাছে প্রেস্টিজ ফাইট৷ তার আগেই রাস্তায় নেমে ভোট চাইতে শুরু করলেন মেয়র ববি হাকিম৷ প্রচারে তাঁর হুঙ্কার- বিরোধীদের জামানত গুঁড়িয়ে যাবে৷ বাম আমলেও কলকাতার যে ১১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছিল তৃণমূলের দখলে, সেখানেই এবার দলীয় প্রার্থী নিয়ে মমতা শিবিরে কিছুমাত্র গুঞ্জন রয়েছে৷ প্রচারে মেয়রকে নামিয়ে সেটাই সামাল দিতে দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসকে৷

পুরসভার ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অমিত সিং৷ আগামী ১৬ ডিসেম্বর এই ওয়ার্ডে বাই ইলেকশন হবে৷ শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অমিতের সমর্থনে এলাকায় মিছিলে হাঁটলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (ববি)৷ তৃণমূলের অন্দরের খবর, বাবা তারক সিং পোড়খাওয়া রাজনীতিক তথা তৃণমূলের দাপুটে নেতা৷

পড়ুন: বধূ নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন মোহনকর্তার ছেলে

আবার তিনি ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মেয়র পরিষদ সদস্য৷ তাঁর কন্যা কৃষ্ণা সিং ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর৷ হেভিওয়েট তৃণমূলী পরিবার থেকে আসা অমিতের সমর্থনে রাস্তায় নামলেন স্বয়ং মেয়র৷ মিছিলে ছিলেন দলের অন্যান্য নেতৃত্বরাও৷

গত দু’বছর ধরে কাউন্সিলরের আসনটি ফাঁকা রয়েছে কলকাতা পুরসভার ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে৷ কাউন্সিলর শৈলেন দাশগুপ্তের প্রয়াণের পর ওই ওয়ার্ডে কোনও বাই-ইলেকশন হয়নি৷ ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ তারক সিং এতদিন ওই ওয়ার্ডের সমস্ত কাজকর্ম দেখাশোনা করতেন বলেই গুঞ্জন শোনা যায় তৃণণূলস্তরে৷ সঙ্গে তারক পুত্র অমিত সিংও বাবার সঙ্গে রাজনীতির কাজে থাকতেন৷

পড়ুন: ১৯-এর ব্রিগেডের আগে উত্তরে মিনি ব্রিগেড অভিষেকের

বাবার দাপটে সেই অমিত সিংকেই প্রার্থী করল তৃণমূল৷ তবে এখানে চতুর্মুখী লড়াই৷ রয়েছেন বিজেপির প্রার্থী সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমের প্রার্থী অমিতাভ কর্মকার ও কংগ্রেসের প্রভিষেক সিংহ৷ এর মধ্যে অমিতের প্রধান বিরোধী বিজেপির সোমনাথ৷

তবে অমিতের সমর্থনে স্বয়ং মেয়র রাস্তায় নামলেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট হলে তাঁর জেতার ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে খোদ তৃণমূলের অন্দরেই৷ ওই এলাকার পুরনো তৃণমূলীদের এক অংশের দাবি, ‘প্রয়াত কাউন্সিলর শৈলেন দাশগুপ্তের অবর্তমানে ওয়ার্ডের যাবতীয় কাজকর্মে পাওয়া যেত তাঁর স্ত্রী কল্যাণী দাশগুপ্তকে৷ সেখানে তাঁকে প্রার্থী না করে বাবা দাপুটে নেতা হওয়ায় অমিত পেল টিকিট৷ এতে প্রয়াত শৈলেনবাবুর ভোটাররা বিরূপ হতে পারে অমিতের ক্ষেত্রে৷’

পড়ুন: মুকুলের মুখ দেখবেন না বলেই কি ডিজি-মুখ্য সচিবকে লালবাজারে পাঠালেন মমতা

পাশাপাশি অমিত প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি স্থানীয় নেত্রী কল্যাণী৷ সেক্ষেত্রে ভোটবাক্সে প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক৷ কারণ ওই এলাকায় শৈলেন দাশগুপ্তের একটা বড় অংশ ভোটার রয়েছে৷ বাম আমলেও তিনি ওয়ার্ডটি নিজের দখলেই রেখেছিলেন৷

১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। ২০১৫ সালের পুরভোটে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শৈলেন দাশগুপ্ত জিতেছিলেন ২১০০ ভোটের ব্যবধানে। কিন্তু এবার প্রার্থী নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ায় শৈলেনবাবুর ভোট বিজেপির সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাগে যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ মেয়রকে রাস্তায় নামিয়ে কতটা সুফল পাচ্ছে তৃণমূল সেটা যেমন লক্ষণীয়, তেমনই মেয়র হিসেবে ববি হাকিমের প্রথম ভোট লড়াই তো বটেই৷