নিউজ ডেস্ক: এবার পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করল পুরসভা। সোমবার এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই কথা জানিয়েছেন।

২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় এসে ইমামদের জন্য ভাতা চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায়। যা তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বিতর্কের রেশ এখনও সম্পূর্ন কাটেনি। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের ইমামদের ভাতা দেওয়ার ইস্যু নিয়ে প্রচার করেছে একাধিক রাজনৈতিক দল।

ইমাম ভাতা চালু হওয়ার সময় থেকেই একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে তোষণের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কেন পুরোহিতদের ভাতা দেওয়া হবে না? সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন অনেকে। তবে বিলম্বিত হলেও রাজ্যে পুরোহিতদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে।

যদিও রাজ্যের সকল পুরোহিতেরা এই ভাতা পাওয়ার অধিকারী হচ্ছেন না। কলকাতা পুরসভা এলাকার সকল পুরোহিতদেরকেও যে ভাতা দেওয়া হবে এমন নয়। কেবলমাত্র শ্মশানের কাজে নিযুক্ত পুরোহিতদেরকেই ভাতা দেবে কলকাতা পুরসভা। মোট সাতটি শ্মশান রয়েছে। প্রতিদিন সেখানে অনেক মৃতদেহ দাহ করা হয়। শ্মশানের পারলৌকিক কাজ সকলে করেন না। অগ্রদানী ব্রাহ্মণেরা কেউ কেউ ওই কাজ করে থাকেন। তাই শহরের প্রতিটি শ্মশানেই থাকেন ওই ব্রাহ্মণেরা।

মেয়র ববি হাকিম জানিয়েছেন যে এই পেশায় নিযুক্ত বেশির ভাগ ব্রাহ্মণই খুব দরিদ্র। অগ্রদানী হওয়ার কারণে পুজো-অর্চনা করারও অধিকারী নন তাঁরা। কেবল শবদাহের আগে ও পরে ব্রাহ্মণ হিসেবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কিছু কাজ করে থাকেন। আবার অগ্রদানী ব্রাহ্মণ হিসেবে শ্রাদ্ধের কাজেও যান এঁরা। রোজগার কম বলে অভাবেই দিন কাটে তাঁদের। সেই কারণে তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই পুর প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কলকাতা দিয়ে এই ভাতা প্রকল্প চালু হলেও পরে সমগ্র রাজ্যে এই প্রকল্প চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ববি হাকিম।

আগামী মাস থেকেই এই প্রকল্প চালু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। তার কথায়, ‘‘এক-একটি শেষকৃত্যের জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে ওই ব্রাহ্মণদের ৩৮০ টাকা করে দেওয়া হবে।’’ পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানান, আগামী কাল, বুধবার, মেয়র পরিষদের বৈঠক হচ্ছে। সেখানেই এই প্রকল্পের অনুমোদন করানো হবে।

কলকাতার যে সাতটি শ্মশানের অগ্রদানী ব্রাহ্মণদের জন্য এই প্রকল্প চালু হচ্ছে, সেগুলি হল: কেওড়াতলা, নিমতলা, সিরিটি, গড়িয়া, কাশী মিত্র ঘাট, কাশীপুর এবং গার্ডেনরিচের বিরজুনালা মহাশ্মশান। এই শ্মশানগুলিতে মোট ৪৯ জন পুরোহিত শেষকৃত্যের কাজ করেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.