লখনউ: লোকসভার গাঙ পেরতে দীর্ঘ দিনের বৈরিতা ভুলে জোটের তরী সাজিয়েছেন মায়াবতী-অখিলেশ। সঙ্গে এখন অজিত জুটলেও তারাই প্রথম সামিল হন জোটে।

কিন্তু সমাজবাদী পার্টির সমর্থকদের নিয়ে খুব একটা খুশি নন মায়াবতী। প্রমাণ মিলল তাঁর কথাতেই। তিনি বাতলে দিতে চান, কিভাবে সপার সমর্থকরা নিজেদের প্রস্তুত করবেন। সম্প্রতি অখিলেশের সঙ্গে এক র‍্যালিতে যোগ দিয়ে সপার সমর্থকদের ধমক দিয়ে বার্তা দিলেন কিভাবে তাঁদের জনসভায় শান্তমতি হয়ে কথা শুনতে হবে। সঙ্গে সঙ্গেই বললেন, যখন কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁর বক্তব্য পেশ করবেন তখন যেন তাঁরা শান্ত হয়ে শোনেন।

রবিবার ফিরজাবাদে অখিলেশ-মায়া এক সভায় উপনীত হন যৌথভাবে। ফিরোজাবাদে পৌঁছেই সমাজবাদী পার্টি কর্মীদের ধমক দিতে দেখা যায় মায়াবতীকে। ফিরোজাবাদে বুয়া-ভতিজার সভা ঘিরে রীতিমত তপ্ত ছিল এদিন উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি। মায়াবতী ও অখিলেশকে এক মঞ্চে দেখতে বসপা ও সপার কর্মীরা একজোট হতে থাকেন ফিরোজাবাদের সভায়।

সভামঞ্চে মায়াবতী বক্তব্য রাখার সময় মাঝে মাঝেই স্লোগান শোনা যায়। শোরগোলও শোনা যায়। একটা সময় চরম ক্ষিপ্ত হয়ে মায়াবতী সপা কর্মীদের ধমকের সুরে বলেন, “কথার মাঝে আপনারা (এসপি কর্মী) স্লোগান দেন এবং চিৎকার করেন, আমার মনে হয় আপনাদের বিএসপি সমর্থকদের কাছ থেকে শেখা উচিত, কারণ তাঁরা মন দিয়ে শোনে আমি কি বলছি। সপার সমর্থকদের অনেক শিক্ষার প্রয়োজন।”

বিজেপিকে হারাতে হাত মিলিয়েছেন তাঁরা। পূর্বে বিভিন্ন ঘটনায় রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়ে ছেন সপা – বসপার সমর্থকরা। কিন্তু বর্তমানে তাঁরা এখন একসাথে এক সমন্বয়ে। লোকসভায় উত্তর প্রদেশের ৮০ টি আসনের মধ্যে ৩৭-৩৮-৩ অনুপাতে আসন ভাগাভাগি করবেন বলে সমঝোতা করে জোট করেছেন মায়াবতী – অখিলেশ এবং অজিত।

গোবলয়ের ভোট যুদ্ধে এককালের যুধুধান দুই পক্ষ সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টি একজোট হয়েছে মোদী বিরোধিতার জন্য। সেই রাস্তা ধরে এক সময়ে চরম প্রতিপক্ষ সপার মুলায়ম সিং যাদবের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে দু দশকের শত্রুতা ভুলে সভাও করেন মায়াবতী। জোটসঙ্গীকে নিয়ে হাসিমুখে উত্তরপ্রদেশের মৌনপুরীতে সভা করেন গত সপ্তাহেই।

বিজেপি অবশ্য এই জোটকে “অপবিত্র জোট” বলে ব্যঙ্গ করেছে। মোদী এই জোটকে ” স-রা-ব ” বলে কটাক্ষ করে বলেছেন, “সরাব বা মদ যেমন মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর তেমনি এই জোটও মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর।” কিন্তু নিজেদের ঐক্যের ওপর বরাবরই বিশ্বাস রেখে আসছেন জোট নেতৃত্ব। কিন্তু প্রকাশ্য সভায় ধমক খেয়ে আলোচনা জন্ম নিয়েছে সপার অন্দরে।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে মায়াবতীর জন্মদিনের কেক-এর ভাগ কে নেবে তা নিয়ে বসপা কার্যালয়ে কর্মীদের বিশৃঙ্খলার ছবি প্রকাশ্যে আসে। যে ভিডিওতে দেখা যায়, মায়াবতীর জন্মদিনের কেক লুঠ হয়ে যাচ্ছে বিশৃঙ্খলভাবে। এরপর মায়াবতীর এই পরামর্শ সপার কর্মীদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার বীজ বুনে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।