নয়াদিল্লি: রাজনীতির স্বার্থে এবার ব্যবহার করা হবে মাসুদ আজহার ইস্যু৷ এভাবেই বৃহস্পতিবার বিজেপিকে একহাত নিলেন বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতী৷ তিনি বলেন রাষ্ট্রসংঘ মাসুদ আজহারের মত জঙ্গিকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি তকমা দিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে৷ কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সেই ঘটনাকে নিজেদের স্বার্থে এবার ব্যবহার করা শুরু করেছে৷

এদিন মোদী সরকারকে তুলোধনা করে তিনি বলেন এই বিজেপি সরকারই একদিন মাসুদ আজহারকে নিজেদের অতিথি করে রেখেছিল, সেই সরকারই আবার এখন তাঁকে জঙ্গি ঘোষণা করায় নিজেদের গর্ব জাহির করছে৷ বিজেপি সরকারের দ্বিচারিতা এবাবেই বারবার প্রকাশ্যে চলে আসছে৷

বুধবার রাষ্ট্রসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিল মাসুদ আজহারকে জঙ্গি তকমা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই তকমা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল ভারত। চিনের বাধা থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে মাসুদকে নিষিদ্ধ জঙ্গি ঘোষণা করায় সাফল্যের মুখ দেখল মোদী সরকার। আর এদিনই ভোট প্রচারে গিয়ে সেই সাফল্যের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আরও পড়ুন : শ্রীলঙ্কা বিস্ফোরণের আগেই ভারতে বোরখা নিষিদ্ধ করেছিল মুসলিম সংস্থা

এদিন রাজস্থানের জয়পুরে সভায় গিয়ে তিনি বলেন, ”নিউ ইয়র্ক থেকে খবর আসছে, আজ রাষ্ট্রসংঘ জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের মাথা কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী মাসুদ আজহারকে জঙ্গি তকমা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের জন্য চেষ্টা করে আসছিল ভারত। সাফল্য এসেছে।”

উল্লেখ্য, মাসুদ আজহারকে ব্ল্যাকলিস্টে ফেলার জন্য বারবার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থও হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান বরাবরই মাসুদ আজহারকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। সৌজন্যে রাষ্ট্রসংঘে চিনের ভেটো৷ সেই জঙ্গিনেতাকে নিষিদ্ধ করার জন্য ভারতের উপর শর্তও চাপিয়ে ছিল পাকিস্তান।

পুলওয়ামা হামলায় জইশের যোগ থাকার একাধিক প্রমাণ পেয়েছে ভারত। জইশের ঘাঁটিতে গিয়ে অভিযানও চালিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই জইশের প্রধানই মাসুদ৷ কিন্তু পাকিস্তানের দাবি ছিল, ভারতকে পুলওয়ামা কাণ্ড থেকে মাসুদ আজহারের নাম সরিয়ে নিতে হবে।

আরও পড়ুন : ভারতীয় সেনা ছাউনি টার্গেট করে ফের হেভি শেলিং পাক সেনার

মাসুদ আজহারের ইস্যু ভারতের সাফল্যে খুশি হলেও মায়াবতী তুলে ধরেছেন অটল জমানার কথা৷ তিনি বলেন এই বিজেপি সরকারই একদিন হাতে পেয়েও ছেড়ে দিয়েছিল মাসুদের মত জঙ্গিকে৷

প্রসঙ্গত ১৯৯৯ সালে কান্দাহারের বিমান হাইজ্যাকের ঘটনায় নাম জড়িয়ে ছিল মাসুদ আজহারের৷ ওই সময়, বিমানে থাকা ১৮০ জন যাত্রীকে বাঁচাতে ভারতের জেলে বন্দি থাকা মাসুদ আজহারকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সরকার। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে ওই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।