লখনউ : জোট ভেঙে ছিল আগেই৷ রবিবার উত্তরপ্রদেশের লখনউতে ফের সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতী৷ এদিন মায়াবতী দাবি করেন জোট ভাঙার পর একবারও নিজে থেকে ফোন করেননি অকিলেশ৷ এমনকী ভোটে ভরাডুবির পরেও সপা থেকে বসপার দফতরে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে কোনও আলোচনা চাওয়া হয়নি৷

দলের জাতীয় কর্মসমিতির সভা শেষে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন মায়াবতী৷ সেখানেই সপা প্রধানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি৷ তিনি বলেন, হারের দায় দুই দলেরই সমান ভাবে নেওয়া উচিত৷ কিন্তু ভোটের ফলের পর অখিলেশ তাঁর সঙ্গে দেখাও করেননি, ফোনও করেননি৷ তাই এই জোট আর এগোনো উচিত নয় ভেবে গঠবন্ধনের রাস্তা ত্যাগ করেছেন তিনি৷

আরও পড়ুন : মেয়াদ শেষের আগেই পদত্যাগ রিজার্ভ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বিরল আচার্যের

মায়াবতীর অভিযোগ সমাজবাদী পার্টি প্রেসিডেন্ট লোকসভা ভোটে মুসলিমদের প্রার্থী করার বিরোধিতা করেছিলেন৷ তিনি নাকি বলেছিলেন নির্বাচনে হিন্দু ভোট টানতে মুসলিমদের প্রার্থী না করাই উচিত৷ মায়াবতীর দাবি বসপা সেই দাবি মানেনি৷ তাদের তরফ থেকে মুসলিম প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল৷

এর আগে, সাংবাদিক বৈঠকে জোট ভাঙার কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন মায়াবতী। জোটযাত্রা সম্পূর্ণ ভেস্তে গিয়েছে বলেও মানতে নারাজ ছিলেন বিএসপি নেত্রী। তাঁর কথায়, “আমাদের জোট চিরতরে ভেঙে যায়নি। যদি আমাদের মনে হয় যে সপা প্রধান রাজনীতির ময়দানে সফল হতে পেরেছেন তাহলে আবার জোট করতেই পারি।”

কিন্তু তেমন না হলে কী হবে? এই প্রশ্নের জবাবে মায়াবতী বলেছেন, “তেমন কিছু হলে আমাদের আলাদা লড়াই করাই ভালো।” সেই কারণেই উপনির্বাচনে দুই দল আলাদা আলাদা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলিত কি বেটি তথা বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী।

আরও পড়ুন : ‘জয় শ্রীরাম, জয় হনুমান’ বলিয়ে সারারাত চলল বেধড়ক মার, মৃত যুবক

সূত্রের খবর, মায়াবতীর এখন এই জোটকে ‘ফালতু’ বলে মনে হয়েছে৷ কারণ, ভোটের ফল পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন যাদব ভোটের একটিও তাঁর দল পায়নি৷ তাস্বত্ত্বেও গতবার শূন্য আসন পাওয়া মায়াবতীর দল এবার ১০টি আসন পায়৷ এই লোকসভা ভোটে অখিলেশের পরিবার থেকেও মুখ ফিরিয়েছেন যাদবরা৷ তিনি মনে করেন, অখিলেশের কাকা শিবপাল যাদব ও কংগ্রেসের ভোট কাটাকাটি হয়েছে৷ সব পর্যবেক্ষণ করেই মায়াবতী জোট থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷

আর এই মহাজোটের ক্ষতির অংশ সবথেকে বেশি যদি কারোর হয়ে থাকে তিনি অখিলেশ যাদব৷ এবারের ভোটে মাত্র পাঁচটি আসন পায় তাঁর দল৷ অখিলেশের স্ত্রী ডিম্পল ভোটে হেরেছেন৷ যাদব পরিবারের আরও দুই সদস্য অক্ষয় ও ধর্মেন্দ্র যাদব জিততে পারেননি৷