লখনউ: অমিত শাহের রোড শো’য়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও হিংসার পর নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সময়সীমা কমিয়ে দিয়েছে৷ তারপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে পাশে এসে দাঁড়ালেন বহুজন সমাজ পার্টি সুপ্রিমো মায়াবতী৷ বিরোধীদের সুরে সুর মিলিয়ে তিনিও নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির হয়ে কাজ করার অভিযোগে বিদ্ধ করেন৷

এদিন উত্তরপ্রদেশে বিবৃতি দিয়ে দলিত নেত্রী কমিশনের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেন৷ তাঁর প্রশ্ন, কেন বৃহস্পতিবার রাত ১০ টা অবধি প্রচারের সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশন? কেন আজ সকাল থেকে এই নিয়ম লাগু হল না? জবাবটা নিজেই দিয়ে দেন মায়াবতী৷ বলেন, আসলে আজ বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর দুটো সভা আছে৷ বসপা সুপ্রিমোর অভিযোগ, বিজেপিকে প্রচারের সুযোগ করে দিতে কমিশনের এই পক্ষপাতিত্ব৷ এটা সঠিক নয়৷ নির্বাচন কমিশন চাপের মুখে কাজ করছে৷

মায়াবতী এখানেই থেমে থাকেননি৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেন৷ মায়াবতী বলেন, ‘‘এটা পরিস্কার মোদী, অমিত শাহ ও বিজেপির অন্যান্য নেতারা মমতা ব্যানার্জীকে টার্গেট করেছে৷ এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পনামাফিক করা হয়েছে৷ এক ভয়ঙ্কর ও অনুচিত ধারা তৈরি হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রীর মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়৷’’

অমিত শাহের রোড শোয়ের দিন রাজনৈতির হিংসার ‘বলি’ হন ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর৷ তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে তাঁর মূর্তি ভাঙা পড়ে৷ তারপর থেকে আর উত্তাল হয়ে ওঠে বঙ্গ রাজনীতি৷ সেই আঁচ গিয়ে পড়ে জাতীয় রাজনীতিতে৷ তারপরই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন৷ সংবিধানের ৩২৪ ধারা বলে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়৷ বৃহস্পতিবার রাত ১০টি অবধি সব রাজনৈতিক দলকে প্রচার শেষ করে নেওয়ার নির্দেশ জারি করে কমিশন৷

কমিশনের এই সিদ্ধান্ত আগুনে ঘৃতাহুতির কাজ করে৷ এই ইস্যুতে আরও একবার বিরোধী ঐক্য ফুটে ওঠে৷ বিরোধী নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার বার্তা দিতে থাকে৷ কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করে৷ জানায়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের লজ্জাজনক আত্মসমর্পন৷ মায়াবতীর মতো সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিরও প্রশ্ন, কেন বৃহস্পতিবার রাত দশটা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা? কারণ কি রাজ্যে মোদীর দুটি মিছিল?