লখনউ: পূরণ হয়নি স্বপ্ন। তাই ভেঙে গেল স্বপ্নের জোট। আপাতত আলাদা ভাবেই লড়াই করবে বুয়া এবং ভাতিজা।

বিজেপিকে রুখতে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করেছিল সপা এবং বিএসপি। দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের যৌথ সাংবাদিক বৈঠক ভারতের রাজনীতির নয়া ইতিহাস রচনা করেছিল।

কিন্তু লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ হয়েছে সেই জোট। সেই কারণে লোকসভা ভোট মিটতেই ভেঙে গেল সেই জোট। উত্তর প্রদেশের ১১ আসনে উপনির্বাচনে একা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মায়াবতী। সোমবার দলীয় বৈঠকে এমনই মন্তব্য করনে দলিত নেত্রী।

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে জোট ভাঙার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন মায়াবতী। তবে জোটযাত্রা সম্পূর্ণ ভেস্তে গিয়েছে বলেও মানতে নারাজ বিএসপি নেত্রী। তাঁর কথায়, “আমাদের জোট চিরতরে ভেঙে যায়নি। যদি আমাদের মনে হয় যে সপা প্রধান রাজনীতির ময়দানে সফল হতে পেরেছেন তাহলে আবার জোট করতেই পারি।” কিন্তু তেমন না হলে কী হবে? এই প্রশ্নের জবাবে মায়াবতী বলেছেন, “তেমন কিছু হলে আমাদের আলাদা লড়াই করাই ভালো।” সেই কারণেই উপনির্বাচনে দুই দল আলাদা আলাদা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলিত কি বেটি তথা বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী।

সূত্রের খবর, মায়াবতীর এখন এই জোটকে ‘ফালতু’ বলে মনে হয়েছে৷ কারণ, ভোটের ফল পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন যাদব ভোটের একটিও তাঁর দল পায়নি৷ তাস্বত্ত্বেও গতবার শূন্য আসন পাওয়া মায়াবতীর দল এবার ১০টি আসন পায়৷ এই লোকসভা ভোটে অখিলেশের পরিবার থেকেও মুখ ফিরিয়েছেন যাদবরা৷ তিনি মনে করেন, অখিলেশের কাকা শিবপাল যাদব ও কংগ্রেসের ভোট কাটাকাটি হয়েছে৷ সব পর্যবেক্ষণ করেই মায়াবতী জোট থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷

আর এই মহাজোটের ক্ষতির অংশ সবথেকে বেশি যদি কারোর হয়ে থাকে তিনি অখিলেশ যাদব৷ এবারের ভোটে মাত্র পাঁচটি আসন পায় তাঁর দল৷ অখিলেশের স্ত্রী ডিম্পল ভোটে হেরেছেন৷ যাদব পরিবারের আরও দুই সদস্য অক্ষয় ও ধর্মেন্দ্র যাদব জিততে পারেননি৷ মায়াবতীর এই সিদ্ধান্তের পর অখিলেশ কোন পথ বেছে নেবেন সেটাই দেখার৷ এর আগে তিনি এই মহাজোটকে ২০২২ সালের বিধানসভা ভোট অবধি টেনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন৷ তাই আলাপ আলোচনা করে মায়াবতীকে বুঝিয়ে জোটে ধরে রাখতে পারবেন কিনা তা সময় বলবে৷