লখনউ: আগামী ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দিন৷ তার আগেই বিভিন্ন সমীক্ষা যে সব সম্ভাব্য ফলাফল তুলে ধরছে তাতে গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলেই মত অনেকের৷ আর তাই বহুজন সমাজবাদী পার্টি প্রধান মায়াবতী কংগ্রেসের সঙ্গে ভোট পরবর্তী জোট নিয়ে বৈঠক বাতিল করলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ একদিকে কিছু সমীক্ষা সপা-বসপা জোট গেরুয়া শিবিরকে উত্তরপ্রদেশে কিছুটা হলেও ধাক্কা দিতে পেরেছে বলে জানাচ্ছে, অন্যদিকে আরও কিছু সমীক্ষা জানাচ্ছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব কিছু ফেলতে পারেনি৷

গতকাল চাণক্য সমীক্ষা রিপোর্ট জানায়, উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ৬৫, জোট ১৩ এবং কংগ্রেস ২ টি আসন পেতে চলেছে৷ অন্যদিকে, ইন্ডিয়া টুডে-মাই অ্যাক্সিস সমীক্ষা বলছে, এনডিএ ৬২-৬৮, জোট ১০-১৬ আসন পেতে চলেছে৷ ২০১৪ সালে এই ৮০ লোকসভা কেন্দ্রে ৭১টি আসন পেয়ে ঝড় তুলেছিল গেরুয়া শিবির৷ এদিকে, এবিপি এক্সিট পোল জোটের ভবিষ্যত ৫৬ বলে জানাচ্ছে৷

তবে চূড়ান্ত ফলাফলের আগে কোনওরকম বড় পদক্ষেপ যে নিতে চান না বসপা প্রধান, তা দিল্লি সফর বাতিল করে একপ্রকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মায়াবাতী৷ বেশিরভাগ সমীক্ষায় মোদীর ক্ষমতায় ফিরে আসা স্পষ্ট হয়ে যেতেই দিল্লি সফর বাতিল করেন তিনি৷ বিএসপি নেতা সতীশ চন্দ্র মিশ্র জানান, সোমবার বিএসপি প্রধান এবং সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে কোনও বৈঠক হচ্ছে না৷ মায়াবতী লখনউতেই থাকবেন৷

এর আগে জানা গিয়েছিল, লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে, অর্থাৎ ২৩ মে-র আগেই কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট এবং ইউপিএ চেয়ারপার্সনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মায়াবাতী৷ কংগ্রেস লোকসভা নির্বাচনে কোনও জোটে না গেলেও, সমাজবাদী পার্টি এবং আরএলডি-র সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াইয়ের ময়দানে নামে বহুজন সমাজবাদী পার্টি৷

এর আগে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল মায়াবতীকে। কিন্তু এরপর বিরোধী জোটের একাধিক বৈঠক হলেও সেখানে মায়াবতীর উপস্থিতি দেখা যায়নি। শনিবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন চন্দ্রবাবু। শেষ দফার আগে জোটের ভিত মজবুত করতে এবার অখিলেশ ও মায়াবতীর সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। বৈঠক হয় সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গেও। এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।

২৩ মে ভোটের ফলাফলের দিনেই বিশেষ বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। সেখানেও উপস্থিত থাকবেন চন্দ্রবাবু নাইডু সহ মহাজোটের শরিকরা। স্বয়ং সোনিয়া গান্ধী ডেকেছেন এই বৈঠক। ফলাফলের পর রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হবে সেখানে। তার আগেই নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে কথা বলছেন চন্দ্রবাবু ও মায়াবতী। চন্দ্রবাবু নাইডু- রাহুল গান্ধীর ঘন্টা খানেকের বৈঠক যেমন বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে তেমনই আবার সংখ্যা গরিষ্ঠতা কম থাকা বিজেপি যাতে সরকারের গড়ার জন্য অন্য দলগুলিকে ভাঙাতে না পারে তার জন্য কৌশলগত দিক থেকে তৈরি থাকার কথাও বলা হয়৷ তবে সোমবারের বৈঠক থেকে নিজেকে সরিয়েই রাখলেন মায়াবাতী৷