বিশাখাপত্তনম: টিআরএস প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সুর এবার বিএসপি নেত্রী মায়াবতীয় গলায়৷ কেন্দ্রে অ-বিজেপি, অ-কংগ্রেসী সরকার গঠনের ডাক দিলেন দলিত নেত্রী মায়াবতী৷

লোকসভার সঙ্গেই অন্ধ্রপ্রদেশে হবে বিধানসভা ভোট৷ জন সেনা পার্টির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিধানসবা ভোটে প্রার্থী দিয়েছে বিএসপি৷ দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে এদিন বিশাখাপত্তনমে প্রচারে যান মায়াবতী৷ সেখান থেকে দেশ পরিচালনায় অ-বিজেপি, অ-কংগ্রেসী তৃতীয় শক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা জানান বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান৷

মায়াবতী বলেন, ‘‘দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতরণা করেছে কংগ্রেস ও বিজেপি৷ তাই এবার সময় এসেছে তৃতীয় শক্তির দেশ পরিচালনার সুযোগের৷’’ তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘‘কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে সুযোগ থাকবে অন্ধ্রপ্রদেশবাসীর দাবি মেনে ‘বিশেষ তকমা’ জোড়াগের৷ আমার দল সবসময় সেই চেষ্টা করবে৷’’

আরও পড়ুন: কমিশনের বারণ সত্ত্বেও প্রচারে কেন সেনার নাম, মোদীকে প্রশ্ন মমতার

মুখে তৃতীয় শক্তি কথা বললেও ভোট পরবর্তী রাজনীতির কথা মাথায় রেখেছেন মায়াবতী৷ উত্তরপ্রদেশে দলিত ভোট একত্রিত করতে ‘বুয়া-বাবুয়া’ জোট করলেও তাতে সামিল করেননি রাহুল গান্ধীর কংগ্রেকে৷ যডিও রাহুলের আমেঠি ও সোনিয়া গান্ধীর রায়বেরেলিতে উত্তরপ্রদেশের মহাগঠবন্ধন কোনও প্রার্থীও দেয়নি৷ অন্যদিকে, ভোট পরবর্তী জোটের বার্তা দিতে উত্তরপ্রদেশের ৮০টির মধ্যে এসপি, বিএসপির বিরুদ্ধে ৭টি আসনে প্রার্থী দেয়নি কংগ্রেসও৷

আরও পড়ুন: মমতার উনিশের ব্রিগেড-কে ছুঁতে পারলেন না মোদী

এর আগে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা টিআরএস প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাও কেন্দ্রে অ-বিজেপি, অ-কংগ্রেসী জোট গঠনের ডাক দেন৷ তৃণমূল, আরজেডি সহ একাধিক আঞ্চলিক দলের সঙ্গে কথাও শুরু করেছিলেন তিনি৷ পরে, বিজেপিকে হঠাতে একের বিরুদ্ধে এক ফরমুলায় সিলমোহর দেয় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি৷ তাতে সামিল হয় কংগ্রেসও৷ চলতি বছরের ১৯শে জানুয়ারি কলকাতার ব্রিগেডে হয় ইউনাইটেড ইন্ডিয়া ব়্যালি৷ তাতে যোগ দেন মায়াবতীর দূত সতীশ মিশ্র৷ তবে সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন কে চন্দ্রশেখর রাও৷

ভোটের আগে মায়াবতীর মন্তব্যে আশার আলো দেখছেন টিআরএস নেতৃত্ব৷ দলের মুখপাত্র আবিদ রসুল বলেন, ‘‘মায়াবতীজীর উপলোব্ধিকে স্বাগত জানাই৷ ধর্মনিরপেক্ষ অ-বিজেপি, অ-কংগ্রেসী তৃতীয় বিকল্পের জন্য আলোচনার দরজা সব সময় খোলা রয়েছে৷ আমাদের দলের সভাপতি মায়াবতী ও অখিলেশ সিং যাদবের সঙ্গে কথা বলবেন৷ সব আঞ্চলিক দলেরই এই উদ্যোগে সামিল হওয়া উচিত৷’’

বিজেপি বিরোধী জোটের অন্যতম শরিক বলে মানা হচ্ছিল উত্তরপ্রদেশের মহাগঠবন্ধনের দুই দল সমাজবাদী ও বহুজন সমাজবাদী পার্টিকে৷ এবার তারাই উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে ভালো রকম বেগ দিতে পারে বলে সমীক্ষায় ধরা পড়ছে৷ মমতা থেকে চন্দ্রবাবু, কেজরিওয়াল থেকে শরদ পাওয়ারা কংগ্রেসের সঙ্গেই এই জোটকে নিয়ে দিল্লি দখলের স্বপ্ন দেখছেন৷ এই পরিস্থিতিতে মায়াবতীর মন্তব্যে প্রশ্নের মুখে জাতীয় স্তরে মোদী বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ৷