মন্দিরের টপ ভিউ

কৃষ্ণনগর: করোনা মহামারীতে বিধ্বস্ত গোটা দেশ। মারণ ব্যাধির দাপটে অব্যাহত মৃত্যু মিছিল। এই অবস্থায় সংক্রমণে রোধে আনলক ওয়ানেও বেশকিছু প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আনলক-ওয়ানেও ভক্তদের জন্য খুলছে না মায়াপুরের ইসকন মন্দির। দূরদুরান্ত থেকে আগত ভক্ত এবং পর্যটকদের জন্য ঠিক কবে ইসকনের দরজা খুলে দেওয়া হবে সেই বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

তবে আনলক- ১ শুরু হওয়ার পর গত সোমবার থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মন্দির,মসজিদ ও গির্জা খোলার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। যদিও বাংলার বেশিরভাগ জনপ্রিয় তীর্থক্ষেত্রই এক্ষুনি ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলতে নারাজ। এই বিষয়ে ইসকন মন্দিরের চিফ কো-অর্ডিনেটর জগদার্তিহা দাস এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন,”এখনও মন্দির খোলার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা পরে জানানো হবে।”

এদিক পঞ্চম দফায় লকডাউন ও আনলক-১ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে কেন্দ্র এবং রাজ্য। যার ফলে এই অবস্থায় মন্দির খুললে সেখানে থাকা আবাসিকদের সবার আগে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মন্দির চত্বরও অনেক বড়। ফলে মেনগেট থেকে পুজো দিতে গেলে অনেকটা সময় লেগে যাবে। আর মাত্র ১০জন করে প্রবেশ করানো হলে সেক্ষেত্রে বহু ভক্তই পুজো ও আরতি দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন। ফলে এই সমস্ত বিষয় নিয়ে জটিলতা থাকায় মন্দির খোলা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহন হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থক্ষেত্র হল নদীয়ার মায়াপুরের ইসকন মন্দির। বিশ্বের সবথেকে সুন্দর ও সুউচ্চ মন্দির ইসকন গড়ে তোলা হচ্ছে এখানে। আর যা দেখতে দেশ তথা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ভক্ত এবং পর্যটকরা ঘুরতে আসেন এখানে। কিন্ত হঠাৎ করে করোনার থাবা ওলট পালট করে দিয়েছে সবকিছু।

আড়াই মাস হতে চলল মঙ্গল আরতি থেকে শয়ন,সন্ধ্যা আরতি সবকিছুই দর্শন বন্ধ রয়েছে ভক্তদের জন্য। তবে মন্দিরের সেবায়তের দ্বারা গোপালের ভোগ নিবেদন ও যাবতীয় পূজা অর্চনা চলছে একই নিয়মে। তবে লকডাউন শুরুর প্রথম দিকে পর্যটকদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ ছিল না মন্দিরের দরজা। তবে ছিল বেশকিছু বিধিনিষেধ। সেই সময় করোনার প্রকোপ কম থাকায় ভক্তদের জন্য সকাল ১০টা থেকে ১টা এবং সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো।

এছাড়া সম্পূর্ণ পরিষ্কার পরিছন্ন এবং হাত-পা ভালো করে ধোয়ার পরই মিলত মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের ছাড়পত্র। তবে মার্চের পর থেকে দেশ তথা এ রাজ্যে যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে তাতে ইসকনের সেই ভক্ত সমাগমের ছবি বদলে গিয়েছে অনেকদিন আগেই। ফের কবে কৃষ্ণ নামে মাতোয়ারা হবে মায়াপুর তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

লকডাউন পুরোপুরি উঠে গেলে দূরদুরান্ত থেকে আগত পর্যটকরা কিভাবে মন্দিরে প্রবেশ করবেন সেই বিষয়ে এখনও কিছু পরিষ্কার করে জানায়নি ইসকন কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, এবছর আষাঢ় মাসে ইসকনের জনপ্রিয় রথের শোভাযাত্রা হবে কিনা তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। রথযাত্রা নিয়ে কোনও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও অন্যবারের মত এবার যে তা হবে না সেটা একপ্রকার নিশ্চিত বলা চলে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV