ফাইল ছবি

ওয়াশিংটন:  গত বছরখানেক আগে মায়ানমারের রাখাইনে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল রোহিঙ্গা মুসলিমদের একাধিক গ্রাম। এরপর কেটে গিয়েছে অনেকগুলি দিন। জানা গিয়েছে এখন সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল পুলিশ ব্যারাক এবং বিভিন্ন সরকারি দফতর। গত কয়েক দিন আগে মায়ানমার সরকার বেশ কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিকের একটি দলকে উত্তর রাখাইনের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ দেয়।

তাদের মধ্যে ছিলেন বিবিসির বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও। তিনি সেখানের অন্তত চারটি জায়গায় নতুন গড়ে তোলা নিরাপত্তা ঘাঁটি দেখেছেন। যেসব জায়গায় এক সময় রোহিঙ্গাদের গ্রাম থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় স্যাটেলাইট ইমেজে।

সাংবাদিকদের বেশ কয়েকটি গ্রামেও নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে ১০ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যার মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল। মায়ানমারের সামরিক বাহিনী যে অল্প কিছু নৃশংসতার কথা স্বীকার করেছে, তার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড রয়েছে। এই সমস্ত গ্রামে তিন-চতুর্থাংশ ছিল মুসলিম। বাকিরা রাখাইন বৌদ্ধ। যদিও আজ সেখানে মুসলমানের চিহ্নও নেই।

যেখানে রোহিঙ্গাদের বাস ছিল, সেখানে এখন কোনও গাছও নেই। সে জায়গায় স্থান করে নিয়েছে কাঁটাতারের বেড়া ও বর্ডার গার্ড পুলিশের নতুন ব্যারাক। সেখানের বৌদ্ধ বাসিন্দারা জানিয়েছে, তাদের পাশে আর কোনও ভাবেই তারা মুসলিম চায় না।

তবে মায়ানমার প্রশাসন রোহিঙ্গা গ্রামের জায়গায় সরকারি দফতর-ঘাঁটি তৈরির কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।

২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনের ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর থেকে সোয়া সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যদিও এহেন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে মায়ানমার সরকার। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ার স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া রাখাইনের ওই অঞ্চলের ছবি বিশ্লেষণ করে জানাচ্ছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের যে গ্রামগুলো সেনাবাহিনীর দমনপীড়নে ক্ষতিগ্রস্ত ও জনশূন্য হয়ে পড়েছিল, তার ৪০ শতাংশই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের জন্য যেসব শরণার্থী শিবির নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলোও বসবাসের প্রায় অযোগ্য বলে সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রাম ধ্বংস করে সেখানে কয়েকটি শরণার্থী শিবিরও গড়ে তোলা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ