ওয়াশিংটন:  উষ্ণায়নের ফলে ক্রমশ বাড়ছে সাগরে জলের উচ্চতা! তার একটা বড় কারণ হল সাগরের জলের সম্প্রসারণ, দেখছেন বিজ্ঞানীরা৷ কিন্তু এর অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে? ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে? সেজন্য আমাদের কী করা উচিত?  উষ্ণায়নের ফলে সাগরের জলের উচ্চতা বেড়ে চলেছে৷ বর্তমানে ‘সি লেভেল’ বাড়ছে বছরে তিন মিলিমিটার করে৷ তার একটা কারণ মেরু অঞ্চলের তুষার ও হিমবাহের বরফ গলা৷ অপরদিকে তাপমাত্রা বাড়ার ফলে সাগরের জলের সম্প্রসারণ ঘটছে৷ এভাবে সাগরের জলের উচ্চতা বাড়ার ফলে বিভিন্ন দ্বীপ এবং দেশের উপকূল ব্রসড় বিপদের মুখে!

নেওয়া হয়েছিল যে, বিশ্বব্যাপী বরফ গলার ফলেই সাগরের জলের উচ্চতা বাড়ছে৷ কিন্তু তাপমাত্রা বাড়ার ফলে সাগরের জলরাশির সম্প্রসারণ ঘটছে, অর্থাৎ তার ঘনত্ব কমে গিয়ে আয়তন বাড়ছে৷ দৃশ্যত ‘সি লেভেল’ বাড়ার এটাও একটা বড় কারণ৷

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওডেসি অ্যান্ড জিওইনফর্মেশন ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ইয়ুরগেন কুশে জানাচ্ছেন, ‘ গত ১২ থেকে ১৫ বছরের ফলাফল পরীক্ষা করে দেখেছি৷ বছরে তিন মিলিমিটার করে সাগরের জলের উচ্চতা বাড়ছে৷ এ পর্যন্ত আমরা ভাবছিলাম যে, এর এক-চতুর্থাংশ সম্ভবত উষ্ণায়নের ফলে সাগরের জলের সম্প্রসারণের কারণে৷ কিন্তু এখন আমরা দেখছি, তার অনেক বেশি: সি লেভেল বাড়ার ৫০ শতাংশ হলো সাগরের জলের সম্প্রসারণের দরুণ৷” নতুন তথ্য

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলটি স্যাটেলাইট থেকে পাঠানো ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, গত ১২ বছরে উষ্ণায়নের এই বিশেষ ফলশ্রুতি যা ভাবা গিয়েছিল, তার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে৷ নতুন পদ্ধতিতে স্যাটেলাইটের ডাটা অ্যানালাইজ করে সাগরের জলের সম্প্রসারণ নিখুঁতভাবে হিসেব করা যায়৷

অপরদিকে উষ্ণায়নের ফলে জলের সম্প্রসারণ যদি সাগরের জলের উচ্চতা বাড়ায় একটা বৃহত্তর ভূমিকা পালন করে থাকে, তাহলে অতীতে অনেক কম তুষার গলা জল সাগরে গিয়ে পড়েছে৷ কেননা সাগরের জলের উচ্চতা আগের মতোই বছরে তিন মিলিমিটার করে বেড়ে চলেছে৷ তবে এর একটা খারাপ দিকও আছে৷ এর অর্থ, সাগর আরো অনেক বেশি তাপ শুষে নিয়েছে৷

জিওডেসি অ্যান্ড জিওইনফর্মেশন ইনস্টিটিউটের ডক্টর-ইঞ্জিনিয়ার রোয়লফ রিটব্রুক জানাচ্ছেন, ‘‘সাগরের জল যে আগের চেয়ে বেশি গরম হচ্ছে, সেটার তাৎপর্য আছে। কেননা সাগরের গরম জল থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়৷ কাজেই ধরে নেওয়া যেতে পারে যে, সাগরের জল যত গরম হবে, ততই আরও জোরালো ঘূর্ণিঝড় অথবা আরো ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে৷” জলের তাপমাত্রা বাড়লে সেই তাপ বাষ্প সৃষ্টি করে৷ বাষ্পের মাধ্যমে সেই শক্তি বাতাসে গিয়ে পড়ে, ফলে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়, ব্যাপক বৃষ্টিপাত আর বন্যা দেখা দেয়৷

জল আর হাওয়ার মধ্যে তাপমাত্রার ব্যবধান যত বেশি হবে, ঘূর্ণিঝড় ঠিক তত বেশি জোরালো হবে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আরো ঘন ঘন আবহাওয়ার দুর্যোগ ঘটবে, বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা৷ শতাব্দীর শেষ অবধি ঝড়জল আর বন্যা থেকে ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়াতে পারে৷