নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে দেশজুড়ে লকডাউন লাগু করা হয়েছে। তৃতীয় দফায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এখনও পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ হাজারেরও বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা ১,৭০০ ছুঁই ছুঁই। ক্রমশ বাড়ছে আতঙ্ক। যদিও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, পরিস্থিতি এখনও নাকি আয়ত্তের মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু বাস্তব ছবিটা অন্তত এমনটা বলছে না। এরই মধ্যে গবেষকরা সামনে আনছেন বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা আরও চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়েছে কপালে।

গবেষকরা বলছেন, পরিসংখ্যানের বিচারে এপ্রিল মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেশে করোনা বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী হয়েছিল। তবে, মে মাসের ৩ তারিখের পর থেকে সেই প্রবণতার উল্টো ছবি দেখা গিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির হার ৮ এপ্রিল থেকে নিম্নমুখী হয়েছিল। গোটা এপ্রিল মাসজুড়েই প্রায় তা অব্যাহত ছিল। কিন্তু, ৩ মে থেকে তিনদিনের হিসেবে সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে বলে দেখা গিয়েছে।

সরকারি ওয়েবসাইটে স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, ৭০ শতাংশ রোগীই কো-মর্বিডিটির কারণে মারা গিয়েছেন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর পাশাপাশি সুস্থ হওয়ার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এখনও পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ১৮৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সে রাজ্যে ক্রমশ বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সে রাজ্যে ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৫২৫ জনেরও বেশি। মৃতের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। মহারাষ্ট্রের ৩৬টি জেলার মধ্যে ৩৪টিতেই ছড়িয়েছে সংক্রমণ। তবে সেখানে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও সারা দেশের মধ্যে বেশি। ইতিমধ্যেই সেখানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ হাজার ৮১৯ জন।

মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপের সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকে সর্বাধিক আক্রান্ত সাত জেলা- মুম্বই, থানে, পুনে, নাসিক, নাগপুর, ঔরঙ্গাবাদ এবং শোলাপুরে বিশেষ নজর দিতে বলেন হর্ষ বর্ধন। করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের মধ্যে দেওয়া যাবতীয় ছাড় বন্ধ করার পথে হেঁটেছে বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন।

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া অন্য কোনও দোকান খোলা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মদের দোকানও। সংক্রমণ রুখতে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান একদিন অন্তর একদিন খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঔরঙ্গাবাদ পুলিশ-প্রশাসন। আপাতত ১৭ মে পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি এদিন গুজরাত সরকারের সঙ্গেও ভিডিও বৈঠক করেছেন হর্ষ বর্ধন।

সংক্রমণের হিসেবে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাত। সেখানে করোনা আক্রান্ত ৬ হাজার ২৪৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৬৮ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩৮১ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি। সেখানে আক্রান্ত ৫ হাজার ১০৪ জন। ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব