নয়াদিল্লি: দিল্লির নিজামুদ্দিন মার্কাজে হয়েছিল এক বড়সড় জমায়েত। আর সেখানে এসেছিলেন বহু বিদেশি। সেখান থেকে একের পর এক করোনা সংক্রমণের খবর আসতে শুরু করেছে, যা রীতিমত উদ্বেগের। ইতিমধ্যেই জোরকদমে খোঁজ খবর শুরুব হয়েছে সব রাজ্যে।

কিন্তু বিগত কয়েকদিন ধরে খোঁজ নেই নিজামুদ্দিনের মওলানা সাদের। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ আগেই নোটিশ দিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু ২৮ মার্চ থেকেই তিনি বেপাত্তা।

মওলানা সাদ ছাড়াও আরও ৭ জনের নাম রয়েছে এফআইআরে। আরও যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা হলেন ড. জিশান, মুফতি শেহজাদ, এম সইফি, ইউনুস, মহম্মদ সলমন, মহম্মদ আশরফ প্রমুখ। আপাতত মওলানা সাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, মহামারী আইন ভাঙার জন্য মামলা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

গত ৩৬ ঘণ্টা মার্কাজ থেকে ২৩৬১ জনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। এখান থেকে বিভিন্ন রাজ্যে গিয়েছেন মানুষজন। ফলে সব রাজ্যকেই কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ধর্মসভায় যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা শহরের ১৬টি মসজিদে ছিলেন। এঁদের মধ্যে কেউ এদেশের বাসিন্দা। আবার বিদেশ থেকে এসেও যোগ দিয়েছিলেন অনেকে। তাই দিল্লি পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ মঙ্গলবার দিল্লির সরকারকে এই বিষয় তৎপর হয়ে পদক্ষেপ করার জন্য আবেদন করেছে।

এই সরকারি পত্রে লেখা রয়েছে, ওই ধর্মসভায় উপস্থিতদের মধ্যে ৯৪জন ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার, ১৩ জন কিরগিস্তান থেকে, ৯ জন বাংলাদেশ থেকে, ৮ জন মালয়েশিয়ার, ৭ জন আলজেরিয়ার। এছাড়া তিউনিসিয়া, বেলজিয়াম ও ইটালি থেকে ১ জন করে এসেছিলেন। আর বাকিরা ছিলেন ভারতীয়।

দিল্লির মসজিদের জমায়েতই এখনও হয়ে উঠেছে করোনা সংক্রমণের হট স্পট।

ওই জমায়েতত থেকে ফিরে দিল্লিতে ২৪ জন, তেলেঙ্গানায় ৬ জন, আন্দামানে ১০ জন, কাশ্মীরে একজন ও তামিলনাড়ুতে ৫০ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ওই জমায়েতে ৮২৪ জন বিদেশি ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ সেই তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাঁরা এই জমায়েতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। অতি দ্রুত তাঁদের কোভিড পরীক্ষা করানো হবে এবং ১৪ দিনের জন্য তাঁদের আবশ্যিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হবে। এ দিন নিজামুদ্দিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নবান্ন থেকে বেরিয়ে লালবাজারে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পুলিশ কমিশনার-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।