কলকাতা: মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে ঠাকুরবাড়ি ও মতুয়া ধাম একটি গুরুত্বপূর্ণ মতুয়া তীর্থ কেন্দ্র৷ আগামী ২১ মার্চ উত্তর ২৪ গরগনায় ঠাকুরনগরে মতুয়া মেলা হওয়ার কথা৷ কিন্তু তার আগেই গ্রামবাসীদের একাংশ মেলা বন্ধের আবেদন করেছেন হাইকোর্টে৷ সেই আবেদনে আদালত সাড়া দিয়ে আগামী ১৯ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেছে৷

আদালত সূত্রে খবর, গ্রামবাসীদের একাংশ মেলা বন্ধের আবেদন করেছেন৷ সেই আবেদনের ভিত্তিতে ঠাকুরবাড়ির দুই পক্ষকে প্রাসঙ্গিক নোটিশ দেওয়ার জন্য নির্দেশ সিঙ্গেল বেঞ্চ বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের৷ পরবর্তী শুনানি হবে ১৯ মার্চ৷ হয়ত সে দিনই চুড়ান্ত জানা যাবে মেলা হবে কিনা৷

এদিকে মতুয়া মেলা নিয়ে প্রশ্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে প্রশ্ন করা হলে,তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে যে কোনও মেল না করাই ভাল৷ তবে নিয়ম মেনে পুজো করা যেতে পারে৷ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মতুয়া মেলা কমিটির কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, ২১ মার্চ নির্ধারিত সূচি মেনে পুজো হোক৷ কিন্তু মেলার দিন পিছিয়ে দেওয়া হোক৷

আরও পড়ুন – করোনা আতঙ্ক: একগুচ্ছ ট্রেন বাতিল করল রেল

প্রতি বছরের মতো এবছরেও বড় করে মতুয়া মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু সেই মেলা বন্ধ করার দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীদের একাংশ। ঠাকুরনগরের বাসিন্দা সুখেন্দ্রনাথ গায়েন একটি রিট মামলা দায়ের করেন। মামলাকারীর আইনজীবী লিটন মৈত্রের বক্তব্য মতুয়ারা মেলার দিন একটি জলাশয়ে সকলে একসঙ্গে স্নান করেন। ফলে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরার আশংকা রয়েছে। সেক্ষেত্রে মেলা বন্ধ করা হোক।

মামলাকারীরা অভিযোগ করেছেন, মেলা বন্ধের আবেদন করায় মমতাবালা বিরোধিতা না করলেও শান্তনু ঠাকুরের লোকজন তাদের মারধোর করে। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে শান্তনু ঠাকুরকে মামলার কপি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন৷

এর আগে ঠাকুর পরিবারের সদস্য তথা বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর জানিয়েছেন,মতুয়া মেলা করার আমরা কেউ নই৷ ভক্তরাই এই মেলার আয়োজক৷ আমরা কোনও ভক্তকে ঠাকুরবাড়িতে আসতে বারণ করতে পারি না৷ তবে এই মেলার পবিত্রতা নিয়ে মতুয়া ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে৷ তাই সব সিদ্ধান্তই নেবেন ভক্তরা৷ সারা বছর তারা এই মেলার জন্য অপেক্ষা করে থাকে৷

ঠাকুরনগর মতুয়াধর্ম মহামেলা হল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একটি বিখ্যাত মেলা। মেলাটি প্রতিবছর চৈত্র মাসের প্রথম বা মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় এবং মেলা সাত দিন ধরে চলে। মেলাকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, ছত্তিসগড়, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা-সহ দেশের প্রায় প্রতিটি রাজ্য থেকেই মতুয়া ভক্তেরা ঠাকুরবাড়ি আসেন। বাংলাদেশ, মায়ানমার থেকেও আসেন অনেক ভক্ত। ‘কামনা সাগর’-এ ডুব দিয়ে পুণ্যস্নান সারতে চান সকলে। প্রতি বছর হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথি মধু কৃষ্ণত্রয়োদশীতে পুণ্যস্নানের মাধ্যমে ওই মেলা শুরু হয়।