পানাজি: তিনটে গোল, দু’টো অ্যাসিস্ট। চলতি আইএসএলে লাল-হলুদের করা গোলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান তাঁর। ফাওলার তাঁকে ব্যবহার করছেন ডিফেন্সের পর্দা হিসেবে। কিন্তু ডিফেন্স থেকে শুরু করে আক্রমণ, ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মাত্তি স্টেইনম্যান সবেতেই সমান সাবলীল। সারা মাঠ দৌড়ে ফেলছেন জার্মান মিডিও। লক্ষ্য দলের জয়। কিন্তু শুধুই কী তাই? না, একদম না। দলের জয় বা দলকে ট্রফি এনে দেওয়ার জন্যই শুধু দৌড়চ্ছেন না মাত্তি। জার্মান মিডিও দৌড়চ্ছেন আরেকটি মহৎ উদ্যোগে।

এবার একটু খোলসা করে বলা যাক। এদেশে এসে স্বল্পদিনের মধ্যেই হালচাল বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছেন হামবুর্গের প্রাক্তনী। তিনি খোঁজ নিয়েছেন ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য সাধারণ মানুষের দুর্দশার ব্যাপারে। আর তাই ‘Viva Con Agua’ নামে একটি আন্তর্জাতিক চ্যারিটি সংস্থার সঙ্গে এক হয়ে ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন জার্মান ফুটবলার। কিন্তু তিনি তো গোয়ায় লাল-হলুদ জার্সিতে মাঠ কাঁপাচ্ছেন। ফুটবলের পাশে গোটা বিষয়টি সম্ভব হচ্ছে কীভাবে?

খুব সহজ বিষয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীদের জন্য একটি ফান্ড তৈরি করেছেন মাত্তি। নাম দিয়েছেন ‘মাত্তি রানস ফর ওয়াটার’। তাঁর অনুরাগী, ক্লাবের সমর্থকেরা তো সাহায্যের হাত এর মাধ্যমে বাড়াতে পারবেনই। পাশাপাশি মাত্তি স্থির করেছেন চলতি মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে মাঠে যত কিলোমিটার তিনি দৌড়বেন, প্রত্যেক কিলোমিটার পিছু ১০ ইউরো অর্থ সেই ফান্ডে দান করবেন তিনি নিজে। এভাবে ওই চ্যারিটিকে অর্থসাহায্য করে ভারতের প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করবেন তিনি।

হামবুর্গ স্থিত এই এনজিও বৃষ্টির জল সংরক্ষণের মাধ্যমে আফ্রিকা, ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মধ্যে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একা মাত্তি নন, এনজিও’টির এই অভিনব উদ্যোগে সামিল হয়েছেন অন্যান্য ক্রীড়াবিদরাও। আইএসএল শুরুর আগেই মাত্তির নজরে পড়ে বিষয়টি এবং তিনি স্থির করেন চলতি আইএসএলে দৌড়নো প্রতি কিমির জন্য ১০ ইউরো করে অর্থ ওই সংস্থার ফান্ডে দান করবেন। তাঁর এই সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি সহজে মানুষকে জানাতে চাননি মাত্তি। আবার একইসঙ্গে মানুষকে প্রাকৃতিকভাবে সচেতনও করতে চেয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বেঙ্গালুরু ম্যাচে মাত্তি স্টেইনম্যানের দুরন্ত ফ্লিক গোলেই তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয়েছিল লাল-হলুদের। যদিও ওই ম্যাচেই শেষদিকে শ্বাস-প্রশ্বাসে কিছুটা কষ্ট হওয়ায় মাঠ ছাড়েন জার্মান মিডিও। তবে আগামী কেরালা ম্যাচের জন্য সম্পূর্ণ ফিট মাত্তি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।