ইংরেজবাজার: হরিয়ানার ‘খাপে’-র ছায়া আবারও বাংলার মাটিতে৷ ডাইনি অপবাদে প্রৌঢ় দম্পতিকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়ে ভিটেছাড়া করল গ্রামের সালিশি সভা৷ ব্যাপারটা শুধু সেখানেই থেমে থাকেনি৷ পরে অন্য গ্রামে ধাওয়া করে সেখান থেকে রাতের অন্ধকারে প্রৌঢ়াকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়৷ প্রৌঢ়া এখনও বেপাত্তা৷ ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হবিবপুর থানার হোগলা গ্রামে৷ পুরো ঘটনা জানিয়ে প্রৌঢ়ার স্বামী শম্ভু মণ্ডল হবিবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি৷

জানা গিয়েছে, গত দোসরা জুন গ্রামেরই বাসিন্দা একটি ছেলের কোনও অসুস্থতার কারণে মৃত্যু ঘটে৷ তার পরই বসে সালিশি সভা৷ ওই সভাতেই গ্রামেরই এক বয়স্ক দম্পতিকে ডাইনি অপবাদে চিহ্নিত করা হয়৷ বলা হয়, তাঁরা ঝাড়ফুঁক-তুকতাক জানেন৷ আর তাতেই নাকি গ্রামের সর্বনাশ হচ্ছে৷ ছেলেটিরও মৃত্যু হয়েছে ওঁদেরই জন্য৷ এখানেই শেষ নয়, এর পরই একপ্রকার ঘাড় ধরে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয় ওই দম্পতিকে৷ বলা হয়, তাঁরা গ্রাম ছেড়ে চলে না গেলে তাঁদের মেরে ফেলা হবে৷ মারা হবে বীভৎসভাবে৷ প্রথমে কুপিয়ে, তার পর কেরোসিন তেল ঢেলে জ্বালিয়ে৷

সেদিন রাত থেকেই প্রাণ বাঁচাতে প্রৌঢ় শম্ভু মণ্ডল স্ত্রীকে নিয়ে পাশের গ্রামে ভাই খগেন মণ্ডলের বাড়িতে আশ্রয় নেন৷ তাতেও শেষরক্ষা হয়নি৷ওই রাতেই শম্ভুবাবুর ভাই খগেন মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় ১৭-১৮ জন দুষ্কৃতী৷ উঠিয়ে নিয়ে যায় শম্ভু মণ্ডলের স্ত্রীকে৷ প্রাণভয়ে পালান শম্ভুবাবু৷ সারা রাত পার্শ্ববর্তী জলায় গলাজলে কাটিয়ে সকালে ভাইয়ের বাড়ি ফিরে আসেন৷ স্ত্রীর কী হয়েছে, তা এখনও জানেন না ৷শুধু এটুকুই জানাতে পেরেছেন যে, নিজের প্রাণরক্ষার আরজি জানিয়ে বিডিও-র দ্বারস্থ হবেন৷

মৃত ছেলেটি সম্পর্কে শম্ভু মণ্ডলের ভাইপো বলে জানা গিয়েছে৷ শম্ভু মণ্ডলের অভিযোগ, ছেলেটির মৃত্যুর জন্য দায়ী করে তার দাদা অনিল মণ্ডল, ভাই বরুণ মণ্ডল প্রমুখ তাঁদের স্বামী-স্ত্রীকে ডাইনি অপবাদ দিয়েছে৷ তারাই তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে৷