প্রতীকী ছবি৷

বসিরহাট: বেআইনি চোলাই রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ৷ ঢাকঢোল পিটিয়ে চলেছে প্রচার-অভিযান৷ বেআইনি চোলাই রুখতে ধরপাকড়ও শুরু করেছে পুলিশ৷ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কড়া নজরদারি ও তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে চোলাই মদও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ৷ কিন্তু, তাতেও চোলাইয়ের কারবার বন্ধ করা যাচ্ছে না৷ পুলিশের চোখ এড়িয়ে দেদার চলছে কারবার৷ বসিরহাটের যৌন পল্লিতেও চোলাইয়ের কারবার চলছে৷ চোলাইয়ের আসক্তির জেরে এলাকায় অশান্তি, আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটছে৷ কিন্তু, হুঁশ ফিরছে না উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটের প্রশাসনিক কর্তাদের৷

বসিরহাট থানার পাশে বৌবাজার, বসিরহাট শ্মশান চত্বরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে চোলাই মদ। যার ফলে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। শুধু তাই নয়, বসিরহাটের হুলো এলাকায় রয়েছে চোলাই মদের ভাটিখানা। সেখানে রাত দিন ধরে তৈরি হচ্ছে চোলাই মদ। এছাড়া বসিরহাটের মাটিয়া, ভ্যাবলা রেল স্টেশন চত্বরেও রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে চোলাই মদ। যদিও বা এই বিষয়ে এলাকার মানুষরা ক্ষুব্ধ। বসিরহাট শ্মশান চত্বরে আসা এক শব যাত্রী পার্থ ভৌমিকের কথায়, “এই শ্মশান চত্বর নোংরা হয়ে যাচ্ছে চোলাই মদ বিক্রির জন্য।’’ বসিরহাট শ্মশানের কাছেই এক হোসিয়ারি দোকানের মালিকের কথায়, “সব কিছুই বসিরহাট থানাকে জানিয়েও কোন ফল হয়নি। বারুইপুরের ঘটনার মতো যে দিন এখানে এই ঘটনা ঘটবে সে দিন পুলিশের টনক নড়বে। এতে করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷’’ মাটিয়া এলাকার বাসিন্দা সহরব মণ্ডলের অভিযোগ, “বিগত কয়েক দিন ধরে এখানে চোলাই মদের রমরমা বেড়ে গিয়েছে। প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে চোলাই মদ। সঙ্গে এই এলাকায় থাকা যৌন কর্মীদের বাড়বাড়ন্ত। অনেক অচেনা লোকেদের আনাগোনা শুরু হয়েছে এই চত্বরে। চোলাই মদ খেয়ে যৌন কর্মীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ওই সব ভিন এলাকার মানুষেরা চলে যাচ্ছেন। এতে আমাদের এখানকার সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’’ যদিও এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি বসিরহাটে থানার কোনও পুলিশ কর্মীই। এ বিষয়ে রাজ্যের খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘‘দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে চোলাই মদ খেয়ে মৃত্যু এবং সোনারপুর এলাকায় সোনার দোকানের ডাকাতি ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতোই পুলিশ প্রশাসন, সোনার দোকানের মালিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠক ও করা হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার এই নিয়ে ভালো তৎপরতার সঙ্গে কাজ ও করছেন।’’

প্রসঙ্গত, জেলা পুলিশের সচেতনতার জেরে সম্প্রতি বাগদা, বাদুড়িয়া, গাইঘাটা, হাবড়া, গোপালনগর, অশোকনগর, দত্তপুকুর সহ বেশ কিছু থানা এলাকায় চোলাই মদ বিক্রেতারা পুরানো পেশা ছেড়ে সমাজে মূল গতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন৷ কিন্তু, জেলার সর্বত্র চোলাই মদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো সত্ত্বেও বসিরহাট থানা এলাকা জুড়ে চোলাই মদের রমরমা কারবার ঠেকাতে কার্যত ব্যর্থ স্থানীয় প্রশাসন।