লন্ডন: সিঙ্গাপুর থেকে ২২,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিলেতে প্রিয় দলের ম্যাচ দেখতে কোনও ক্রিকেট অনুরাগী কিভাবে পৌঁছবেন? যে কোনও সাধারণ মানুষ বিমানকেই যে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেবেন, সেবিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু ভারতের অনুপম মাথুর ও তাঁর পরিবার সিঙ্গাপুর থেকে ইংল্যান্ডে বিরাট অ্যান্ড কোম্পানির খেলা দেখতে এলেন একরাশ অ্যাডভেঞ্চারকে সঙ্গী করে।

প্রাইভেট কারে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ২২,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিলেত পৌঁছেছিলেন অনুপম মাথুর। প্রাইভেট কারে এতটা পথ পেরোতে ১৭টি ভিন্ন দেশ ঘুরতে হয়েছে মাথুর ও তাঁর পরিবারকে। শুধু তাই নয়, এই দীর্ঘ পথ পেরোতে ইংল্যান্ড পৌঁছনোর আগে টানা ৪৮ দিন পথেই কাটাতে হয়েছে মাথুর ফ্যামিলিকে। টিম ইন্ডিয়া শেষেমেষ বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে টুর্নামেন্ট শেষ করতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু অনুপম মাথুরের কথায় বিরাট কোহলি ও তাঁর ছেলেদের ক্রিকেট চাক্ষুষ উপলব্ধি করা তাঁদের কাছে এতটাই মূল্যবান ছিল।

আরও পড়ুন: এগারো দিনে তৃতীয় সোনা জয় হিমার

সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড-লাওস-চিন-কিরঘিস্তান-উজবেকিস্তান-কাজাখাস্তান-রাশিয়া-ফিনল্যান্ড-সুইডেন-ডেনমার্ক-জার্মানি-নেদারল্যান্ড-বেলজিয়াম-ফ্রান্স হয়ে ইংল্যান্ড। এই দীর্ঘ যাত্রাপথের ধকল সয়ে বিরাটদের ম্যাচ দেখার ইচ্ছে জাগল কীভাবে? সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকিক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে কর্মরত অনুপম মাথুরের কথায়, ‘এটা আমার ছেলেবালার স্বপ্ন। দশ বছর বয়সে নিউজপেপারে দিল্লির এক দম্পতির কথা জেনেছিলাম, যারা কন্টেসা ক্লাসিক চড়ে টানা ৪২ দিন বিশ্বভ্রমণ করেছিলেন। আমি তার পেপারকাটিংও নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলাম।’

আরও পড়ুন: উত্তর কোরিয়ার কাছে হেরে বিদায় ছেত্রীদের

ছেলেবেলা থেকে সচিনভক্ত মাথুর এ প্রসঙ্গে জানাতে গিয়ে তুলে ধরেন চেন্নাইতে তাঁর স্কুলজীবনের দিনগুলির কথা। যখন বিশ্বকাপের দিনগুলোতে স্কুল পালিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতেন তিনি। পাশাপাশি ২০১১ বিশ্বকাপের পর দলের বাকি সতীর্থরা যখন সচিনকে কাঁধে নিয়ে ওয়াংখেড়ে প্রদক্ষিণ করছিলেন, সেই কথা মনে পড়লে এখনও চোখ ভিজে আসে তাঁর। তবে প্রাইভেট কারে দীর্ঘ ৪৮ দিনের এই যাত্রা প্রসঙ্গে মাথুর জানান, ‘এটা আমার জীবণের কাটানো সেরা ৫০ দিন।’

গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের দিনই ইংল্যান্ড পৌঁছেছেন তারা। এরপর সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের হার, অল্পের জন্য ধোনির রান আউট হওয়ার ঘটনা হতাশ করলেও মাথুর ফ্যামিলি এখন মনোনিবেশ করছে ফাইনালের দিকেই। তারা জানাচ্ছে, ‘যেই জিতুক, ফাইনালের মজা চেটেপুটে নেবেন তারা।’ স্ত্রী অদিতি মাথুরকে তাঁর স্বপ্নপূরণের জন্য ধন্যবাদ জানান অনুপম।