স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া এবছর যেন একটা প্রহসনে পরিণতে হয়েছে৷ সোমবার ছিল মাধ্যামিকের অঙ্ক পরীক্ষা৷ পরীক্ষ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ফাঁস হয়ে যায় অঙ্কের প্রশ্নপত্রও৷ এদিন পঞ্চম দিনের পরীক্ষা৷ এর আগে বাংলা, ইংরাজি ও ইতিহাস পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে৷ আর ওই পরীক্ষাগুলোতেও অন্যথা হয়নি প্রশ্নফাঁস রীতির৷ পরীক্ষা শুরুর পরপরই বাইরে এসেছে প্রশ্ন৷

মাধ্যমিকে এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় রীতিমত অস্বস্তিতে রাজ্যের শিক্ষাদফতর৷ এর আগে দ্বিতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পরই তড়িঘড়ি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তলব করেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতিকে৷ বিগত বছরগুলিতে প্রতি পরীক্ষার শেষে পর্ষদ একটি করে সাংবাদিক সম্মেলন করত৷ কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে নিষেধ করে দেন পর্ষদ সভাপতিকে৷

পরীক্ষাকেন্দ্রে টিচারদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়৷ কিন্তু এরপরও কিভাবে বেড়িয়ে যাচ্ছে প্রশ্ন? প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারির তদন্তভার দেওয়া হয় রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা সিাইডিকে৷ তদন্তে নেমে এদিন তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করল সিআইডি গোয়েন্দারা৷ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে দু’জনকে৷

মাধ্যমিকে প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডে ধৃতরা হল শাহবুল আমির, শাহবাজ মণ্ডল, সাজিদুর রহমান। এর মধ্যে শাহবুলের বাড়ি মালদহের কাটোয়ায় ৷ এছাড়া শাহবাজ ও সাজিদুর বর্ধমানের কাটোয়া এবং হুগলির পান্ডুয়ার বাসিন্দা৷ বাকি দু’ই আটক ব্যক্তির নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি৷

পাঁচটি পরীক্ষা শেষ৷ আর বাকি রয়েছে দুটি পরীক্ষা, ভৌতবিজ্ঞান ও জীবনবিজ্ঞান৷ এবারের প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে অনেকেই বলছেন, বাকি দুটি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও যদি একই পুনুরাবৃত্তি ঘটে তবে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটবে৷ তবে শিক্ষামন্ত্রীর বাধ্য ছাত্র হিসেবে এবিষয়ে একেবারে মুখে কুলুপ এটেছেন পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গাঙ্গুলী৷ তবে সূত্রের খবর, মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলেই পর্ষদ সভাপতির পদ থেকে সরে যেতে পারেন কল্যাণময়বাবু৷

দেশে এবং বিদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে টানা দু'দশক ধরে কাজ করেছেন । বাংলাদেশ থেকে মুখোমুখি নবনীতা চৌধুরী I