পাটনা: এনসেফেলাইটিস বা ‘চমকি বুখারে’ আক্রান্ত হয়ে একের পর এক শিশু মারা যাচ্ছে৷ সন্তানহারা হচ্ছে বাবা-মায়েরা৷ বিহারের মুজফফরপুরে মহামারীর আকার নিয়েছে অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস সিনড্রোম৷ এপর্যন্ত ১০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে৷ এর মধ্যে ৮৯টি শিশুর মারা গিয়েছে শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে৷ বাকি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে৷ দুটি হাসপাতালে আরও ১০০ শিশু ভরতি৷ মঙ্গলবার সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার৷ তাঁকে দেখা মাত্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিশুদের পরিজনেরা৷ কটুক্তির সুরে বলেন, ‘‘এতদিনে আসার সময় হল?’’

এদিন উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে আসেন নীতীশ৷ হাসপাতালে ঢোকা মাত্র শিশুদের বাবা-মায়েদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়৷ রাজধানী পাটনা থেকে মুজফফরপুরের দুরত্ব ৭০ কিমি৷ অথচ এখানে আসতে দু’সপ্তাহ সময় লেগে গেল নীতীশের৷ এই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখান বাবা-মায়েরা৷ দিতে থাকেন ‘গো ব্যাক’ স্লোগান৷ তাদের অভিযোগ, দু’সপ্তাহে ১০০র বেশি শিশু মারা গেল৷ আরও অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ অথচ রাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ৷ তবে বিক্ষোভের মুখে পড়েও হাসপাতালে ভরতি শিশুদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন নীতীশ৷ আলাদা করে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট নেন৷

কিছুদিন আগে সপার্ষদ এই হাসপাতালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন৷ নিজে একজন চিকিৎসক হিসাবে হর্ষ বধনের অভিমত, কোনও ভাইরাসের জন্য জ্বর হয়নি৷ অত্যাধিক গরম অথবা খালি পেটে লিচু খাওয়ার জন্য হয়ে থাকতে পারে৷ তবে এনসেফেলাইটিস নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে জানান তিনি৷ বিহারের পাঁচ জেলায় বায়োলজি ল্যাব তৈরির নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷