স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এবছর দুর্গাপুজোর সপ্তমীতেই রেকর্ড সংখ্যক ভিড় দেখল কলকাতা৷ অন্তত পুলিশ সূত্রে তেমনটাই খবর৷ সকালে ভ্যাপসা গরম আর বিকেলে বৃষ্টির পূর্বাভাস উপেক্ষা করেই শহরে মন্ডপে মন্ডপে ঢল নেমেছিল দর্শনার্থীদের৷ সপ্তমীতেই দর্শনার্থীর সংখ্যা ১০ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে বলে পুলিশের হিসেবে উঠে এসেছে৷ যা গত কয়েকবছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি৷ ফলে আগামী তিনদিন সেই সংখ্যা এবছরের সপ্তমীর ভিড়কেও টপকে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ লালবাজারের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘‘টানা কয়েকদিনের লাগামছাড়া গরমের পর রাজ্যের কয়েক জায়গায় বৃষ্টির জেরে মানুষ স্বস্তি পেয়েছিল৷ গরম কমার জন্যই এত ভিড় হয়েছিল৷’’

বেলা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কলকাতার পুজো দেখতে আসা দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে৷ ফলে যান চলাচল প্রায় থমকে যেতে শুরু করেছিল৷ যদিও পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার৷ কিন্তু তারপরেও শহরের বেশ কিছু জায়গায় যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়৷ সূত্রের খবর, সন্ধের পরে বিটি রোড এবং উল্টোডাঙা থেকে ভিআইপি রোডের একাংশ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে৷ ফলে উত্তরে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে এবং পূর্বে হাডকো মোড়ে সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক যানজট হয়৷

এছাড়াও শহরের বিভিন্ন জায়গায় কিছুসময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ৷ কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি বুঝে সাময়িক রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে৷ ফেসবুকের মাধ্যমে তা আমরা জানিয়ে দিয়েছি৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই আবার রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে৷’’

সপ্তমীর ভিড়ের চোটে দক্ষিণ কলকাতায় একটি পুজোয় দু’ঘণ্টার জন্য দর্শক ঢোকা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল৷ একই কারণে গতবছরও উত্তর কলকাতার একটি পুজো দু’ঘণ্টার জন্য বন্ধ করতে হয়েছিল৷ এক পুলিশকর্তার অভিজ্ঞতা, ‘‘কলকাতার সবক’টি পুজো মন্ডপেই পুলিশি ব্যবস্থা থাকে৷ তবে নামকরা যে পুজোগুলিতে প্রচুর দর্শক হয় সেখানে বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা থাকে৷ কিন্তু তার বাইরেও বেশকিছু পুজো প্রত্যেকবারই আলাদা করে মানুষের নজর কাড়ে৷ সেই তালিকায় কোন পুজোগুলি পড়ছে তা আগে থেকে জানা সম্ভব হয় না৷ ফলে সেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রচুর মানুষের ঢল নামে৷ সেজন্যই আগাম পুলিশি ব্যবস্থা না থাকায় ভিড় সামলাতে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়৷ কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্যই অল্পসময়ের জন্য দর্শকদের আটকে দেওয়া হয়৷’’

যতই ভিড় হোক আর যান চলাচল থমকে যাক পুজোর আনন্দ চেটেপুটে নিতে সব বাধাকেই উপেক্ষা করতে রাজি বাঙালি৷