ঢাকা: গভীর রাতে আবাসিক ভবনেরে ছ’তলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ৷ সেই ঘটনায় এক জনের মৃত্যু ও আরও কয়েকজন জখম হয়েছেন৷ ঘটনাস্থল ময়মনসিংহের ভালুকার৷ স্থানীয় জমিরদিয়া হবিরবাড়ি এলাকায় এই বাড়ি৷ বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়ির একটি অংশ ধসে পড়েছে৷ নিহত ও আহতরা প্রত্যেকেই খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া৷ ঘটনাস্থলে তীব্র উত্তেজনা৷ ঢাকা থেকে পাঠানো হচ্ছে বম্ব স্কোয়াড৷ পুরো বাড়ি ঘিরে রেখে বিশাল পুলিশ বাহিনী৷

ময়মনসিংহের এই বাড়িতে কী ঘটেছে এই বাড়িতে এখনো পরিষ্কার নয়৷ তদন্তে আসা পুলিশ অফিসারদের ধারণা এত বড় বিস্ফোরণের পিছনে দুটি কারণ থাকতে পারে, (এক) গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে যাওয়া, (দুই) ঘরে মজুত করে রাখা বোমা বিস্ফোরণ৷ ফলে ঘটনার কারণ কী সেটা বলতে পারবে একমাত্র বম্ব স্কোয়াড৷

আরও পড়ুন: খাগড়াগড় বিস্ফোরণ চক্রী নাসিরুল্লার পর টার্গেটে সালাউদ্দিন

জানা দিয়েছে, ছ’তলা বাড়িটি সম্প্রতি তৈরি হয়৷ সেখানেই থাকত কয়েকজন ছাত্র৷ রবিবার গভীর রাতে বাড়িটিতে এত জোরে বিস্ফোরণ হয় যে আসে পাশের বাসিন্দারা ভয় পেয়ে যান৷ জানালার গ্রিল ও কাচ ভেঙে প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। পরে জখমদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান স্থানীয়রাই৷ অনেকেই দেখেছেন বাড়ির ভিতর থেকে আগুনের শিখা বেরিয়ে আসতে৷ বিস্ফোরণের জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শাহীন নামে এক পড়ুয়ার৷

জখম বাকিদের নাম হাফিজুর রহমান, দীপ্ত, ও তৌহিদ৷ জানা গিয়েছে তৌহিদের অবস্থা গুরুতর৷ তার চিকিৎসা হবে ঢাকায়৷ স্থানীয় অনেকেই মনে করছেন এই বিস্ফোরণ কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় (এখন পূর্ব বর্ধমান) সদর শহর বর্ধমানের উপকণ্ঠে এমনই বিস্ফোরণ হয়েছিল৷ সেটি খাগড়াগড় বিস্ফোরণ হিসাবেই পরিচিত৷

আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর জঙ্গি সাগর ধৃত, তছনছ হবে নব্য জেএমবি ?

সেই ঘটনায় উঠে আসে জঙ্গি সংগঠন জেএমবি পরিচালিত নাশকতার ছক৷ ভারতের মাটি থেকে ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা করেছিল জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ৷ ময়মনসিংহের বাড়িটিতে তেমনই কিছু ঘটেছে৷