ফাইল চিত্র৷

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বন দফতরের পক্ষে ক্রমশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে বাঘ ধরা। বনের মধ্যে মানুষের অতিরিক্ত যাতায়াতের কারণেই এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন বনকর্তারা। গত শুক্রবার জাল ছিঁড়ে বাঘ পালানোর পর থেকে আরও বিপাকে পড়েছেন৷ তাঁরা জানাচ্ছেন, এর পরে বাঘ ধরা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

শুক্রবার দুপুরবেলা ঝড়ের গতিতে বাঘ ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অনুযায়ী, তাঁরা অনেকক্ষণ জাল দিয়ে বাঘকে আটকে রেখেছিলেন। বনকর্মীরা সেখানে পৌঁছনোর আগেই তিনজনকে জখম করে জাল ছিঁড়ে বাঘ পালায়। রবিবার সকালেও বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা গভীর জঙ্গলের মধ্যে বাঘটিকে দেখতে পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে৷ বনকর্মীদের জন্য এটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানাচ্ছে বন দফতর।

বাঘ ধরতে অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থানীয় বাসিন্দারা লাগামহীনভাবে বনের গভীরে প্রবেশ করছেন৷ এবং, তার জন্যই বাঘ সামনে এলেও প্রত্যেকবার ধরা যাচ্ছে না বলে জানাচ্ছে বন দফতর। গত শুক্রবার বাঘ পালানোর ঘটনার পর থেকে বনকর্মীদের কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। এই বিষয়ে মেদিনীপুরের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “আমাদের চেষ্টার বা কাজের কোনও ত্রুটি নেই। কিন্তু স্থানীয়রা যদি আমাদের কথা না শোনেন, তা হলে বিপদ বাড়বে বই কমবে না। শুক্রবারের ঘটনার পরেও যদি মানুষ আমাদের কথা না শোনেন বা বোঝার না চেষ্টা করেন, তা হলে বাঘ ধরা আমাদের পক্ষে আরও কষ্টকর হয়ে উঠবে।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা মাস কন্ট্রোল করতে পারছি না, এটা মানতে পারি৷ কিন্তু বাঘ ধরায় আমাদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা মানব না। কারণ এটা ন্যাশনাল স্যাঙ্কচুয়ারি নয়। ন্যাশনাল স্যাঙ্কচুয়ারি হলে প্রবেশ ও বাইরে আসার রাস্তা একটাই। কিন্তু এখানে হাজারটা রাস্তা রয়েছে বনে প্রবেশ করার। যে যেখান দিয়ে পারছেন গভীর জঙ্গলে চলে যাচ্ছেন।” রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “আমরা হাতেপায়ে ধরে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। মাইকে প্রচার করছি। না শুনলে এই এত বড় জঙ্গলে কোথায় কাকে আটকাব। বুঝতে পারছি না, বাঘ ধরব না কি মানুষ আটকাব।”

লালগড়ের ঘন জঙ্গলও বনকর্মীদের জন্য অন্য একটা চ্যালেঞ্জ। ডিএফও বলেন, “এখানকার জঙ্গল অত্যন্ত গভীর। এত লতা, গুল্ম ও ঝোপঝাড় বেশি যে দৃশ্যমানতা একহাতের বেশি নয়। সেখানে কোথাও যদি বাঘ ঘাপটি মেরে থাকে, তাকে এমনিতেই দেখা যাবে না। এ বার যে ওখানে যাবেন, বাঘ ভয়েতে তাঁকেই আক্রমণ করবে। স্থানীয়রা সেটাই করছেন৷ স্বাভাবিকভাবে, বাঘ ধরার কৌশল না জানার জন্য স্থানীয়রা নিজেরা জখম হয়েছেন। আমাদেরও আরও সমস্যায় ফেলেছেন।”

প্রশ্ন উঠছে বন দফতরের ক্যামেরার তুলনায় স্থানীয়দের ‘সাধারণ’ চোখই বাঘকে বেশি বার দেখতে পাচ্ছে, সেই বিষয়ে। রবীন্দ্রনাথ সাহার কথায়, “আমরা শিকার করতে যাচ্ছি না। আমরা বাঘকে ট্র্যাপে ফেলে ধরার চেষ্টা করছি। বাঘ সাধারণত রাত কিংবা ভোরের দিকে বেশি ঘোরাফেরা করে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিকারের জন্য ভোরের দিকে বেশি যাচ্ছেন এবং বাঘের দেখা পাচ্ছেন।” তাঁর আর্জি, “আমাদের কাজ করতে দেওয়া হোক। আমরাই বাঘ ধরে দেব।”