নয়াদিল্লিঃ  গত কয়েক মাস ধরেই জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের অসুস্থ থাকার খবর প্রকাশ্যে আসছিল। রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনার হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে মাসুদ আজহারের। গত চার মাস ধরেই সেখানে ভর্তি সে। পুলওয়ামায় হামলার আট দিন আগে একটি অডিও মেসেজ শোনা যায় মাসুদ আজহারের গলায়। ভাইপো উসমানের মৃত্যুর বদলা নেওয়ার বার্তা শোনা গিয়েছিল তার গলায়।

গত অক্টোবরে ত্রালে নিকেশ করা হয় উসমানকে। শুধু তাই নয়, মাসুদ আজহারের ভাগ্নেকেও খতম করে ভারতীয় সেনা। ফলে ভাইপো এবং ভাগ্নের মৃত্যুর বদলা নিতেই পুলওয়ামায় হামলার ছক কষেছিল জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মাসুদ আজহার? প্রাথমিক তদন্তে এমনই ইঙ্গিত পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, মূল চক্রী আজহার হলেও হামলার জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল দুই জইশ কমান্ডার গাজি রসিদ এবং কামরান। এই গাজি রসিদ আবার আফগান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। দুই জঙ্গিই পাকিস্তান থেকে ভারতে ঢুকে আদিলের মগজ ধোলাই করে এবং প্রশিক্ষণ দেয়। পাকিস্তান থেকে বিস্ফোরক ও অন্যান্য সরঞ্জামও পাকিস্তান থেকে নিয়ে এসেছিল এই দুই কমান্ডারই। আর গাজিকে পাঠানো মাসুদ আজহারের শেষ মেসেজ ছিল, ‘‘বড়া হোনা চাহিয়ে, হিন্দুস্তান রোনা চাহিয়ে।’’

ইউজেসি-র অন্যান্য সদস্যদের এই পরিকল্পনার কথা বলেনি মাসু আজহার। গোপনে তার আর এক ভাইপো মহম্মদ উমের ও আব্দুল রশিদ গাজীকে নির্দেশ দিয়েছিল যাতে ওই অডিও মেসেজ ছড়িয়ে মগজধোলাইয়ের কাজ শুরু করে তারা। কাশ্মীরের এক গোয়েন্দা কর্তা জানান, দক্ষিণ কাশ্মীরে লুকিয়ে আছে জঙ্গিরা। রয়েছে তিন নেতা উমের, ইসলামইল ও আব্দুল রশিদ গাজী। কাশ্মীরে অন্তত ৬০ জইশ জঙ্গি রয়েছে বলেও সূত্রের খবর। এর মধ্যে ৩৫ জন পাকিস্তানি।

মাসুদ অসুস্থ হলেও জইশের ভারত বিরোধী কার্যকলাপে কোনও ভাটা পড়েনি৷ কেননা তার অবর্তমানে সংগঠনের দায়িত্ব বর্তেছে দুই ভাই আসগর ও ইব্রাহিমের উপর৷ আসগরকে দেওয়া হয়েছে ভারতে নাশকতামূলক অপারেশন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার৷ ইব্রাহিমকে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের দায়িত্ব৷ গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ৫০ বছরের আজহার স্পাইলান কর্ড ও কিডনির রোগে আক্রান্ত৷ এক বছরের বেশি সময় রাওয়ালপিন্ডির মিলিটারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে৷ কিন্তু এখন মাসুদের যা শারীরিক অবস্থা তাতে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনাই খুব ক্ষীণ৷