নয়াদিল্লি: একটা অতিমারী কয়েক মাসের মধ্যে বদলে দিয়েছে আমাদের সবার জীবনযাত্রা। সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে হলে এখন মাক্স, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় সতর্কতা বিধি মেনে চলা বাঞ্ছনীয়। শুধু তাই নয়, করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের পরও সরকারি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় সতর্কতা বিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনটায় জানাচ্ছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা।

করোনাকে বশে আনতে বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশই কোমড় বেঁধে নেমে পড়েছে ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের কাজে। বিজ্ঞানীদের দিনরাত এক করা অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আলোচনা গবেষণা চলছে শুধুমাত্র করোনার দাপট থেকে বিশ্ববাসীকে মুক্তি দিতে।

কারন যে হারে সংক্রমন বাড়ছে তাতে একটা টিকাই পারে মারণ করোনার হাত থেকে সকলকে বাঁচাতে। আর যার জন্যই সারা পৃথিবীর মানুষ আজ চাতক পাখির মতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে যাচ্ছে। কবে কাটবে এই করোনার কালবেলা। আর এই করোনা আবহেই ফের সামনে এল মার্কিন বিজ্ঞানীদের চাঞ্চল্যকর এক দাবি।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাক্সিন আবিষ্কারে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, প্রতিষেধক আবিষ্কার এবং করোনা পরিস্থিতি কেটে গেলেও ভবিষ্যতে বা এরপরও অনেকদিন মানুষকে মাস্ক পরতে হবে এবং সামাজিক দূরত্বের সমস্ত সরকারি প্রোটোকলগুলি মেনে চলতে হবে।

বেইলির কলেজ অফ মেডিসিনের ন্যাশনাল স্কুল অফ ট্রপিকাল মেডিসিনের সহযোগী ডিন মারিয়া এলেনা বোট্টাজজী একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পর করোনাভাইরাস যে পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যাবে তা নিশ্চিত ভাবে বলা এখনই সম্ভব নয়। দিন, দিন যেভাবে করোনাভাইরাস নতুন নতুন উপসর্গ নিয়ে হাজির হচ্ছে তাতে সুস্থ হয়ে ওঠার পর ফের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

এদিন ‘বিজনেস ইনসাইডারকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাস নিজে থেকেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আবার পুনরায় ফিরেও আসতে পারে।”

এদিকে বিশ্বজুড়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিভিন্ন পর্যায়ে ১৫০ টিরও বেশি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট হিউম্যান ট্রায়ালে পৌঁছেছে। এছাড়াও ২৬ টি হিউম্যান ট্রায়ালের প্রথম ফেজে রয়েছে। এবং এই ২৬ টির মধ্যে আরও ৫ টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তৃতীয় পর্যায়ে বা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের শেষ পর্যায়ে, বিভিন্ন বয়সের কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবীর উপর এর সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে।

মডেরেনা, ফাইজার এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা নামক প্রভৃতি সংস্থাগুলি করোনার টিকা আবিস্কারে দ্রুত গতিতে কাজ করে চলেছে। এই সংস্থাগুলির তৈরী ভ্যাক্সিন খুব শীঘ্রিই ব্যবহারের জন্য বাজারে চলে আসতে পারে। ভারতেও দুটি ভ্যাক্সিন ক্যান্ডিডেট মানুষের উপর পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (বিবিআইএল) এবং জাইডাস ক্যাডিলা কোম্পানী করোনার প্রতিষেধকের হিউম্যান ট্রায়ালের জন্য গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের নেওয়া হচ্ছে। ভারত বায়োটেক এবং জাইডাসকে যথাক্রমে কোভাক্সিন এবং জাইকোভি-ডিকে ফেজ-১ এবং ফেজ-২ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলি জানিয়েছে যে, তাদের ভ্যাক্সিন ক্যান্ডিডেটের প্রথম ডোজ জুলাই মাসে স্বেচ্ছাসেবীদের উপর দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরী অ্যাস্ট্রাজেনেকা পিএলসির তৃতীয় ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট শীঘ্রই ভারতে পরীক্ষা করা হবে।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাস্ট্রাজেনিকার সঙ্গে যৌথভাবে এই ভ্যাক্সিনের অংশীদারিত্বে রয়েছে।

করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের ব্যাপারে পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড -১৯ ভ্যাক্সিন ক্যান্ডিডেট অগস্টের শেষের দিকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পরে ৫,০০০ ভারতীয় স্বেচ্ছাসেবীর উপর পরীক্ষা শুরু হবে এবং সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে

আগামী বছরের জুনের মধ্যে এটি বাজারজাত করা হবে। প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বে ১৭.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছে এবং ৬৭৮,৭৭৫ জন মারা গিয়েছেন ।

শুধু তাই নয় করোনার সংক্রমণের হিসেবে পৃথিবীর মধ্যে তৃতীয় এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ভারত। এখনও অবধি প্রায় ১.৭ মিলিয়ন মানুষ করোনা সংক্রমণের শিকার এবং ৩৬,৫১১ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ