শঙ্কর দাস, বালুরঘাট : উত্তম কাহিনি শুনবেন? নিশ্চিত ভালো লাগবে। এই কাহিনির কেন্দ্র দক্ষিণ দিনাজপুরের সদর শহর বালুরঘাট।

চারিদিকে হুহু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুর ঘটনা।

পুলিশ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য দফতর সব মহলই নেমেছে অসেচতন মানুষকে সচেতন করতে। মাস্ক স্যানিটাইজার ব্যবহার ও সোশ্যাল ডিস্টানসিংএর প্রচারও চলছে। তবুও রাস্তাঘাট ও বাজার হাটে মানুষজনের অনেককেই মাস্ক না ব্যবহার করছেন না।

এগিয়ে এসেছেন উত্তম দা। যাদের মাস্ক কেনার ক্ষমতা নেই, তাদের জন্য নেমে পড়েছেন তিনি।

আরো পোস্ট- উত্তমের চা, চিংড়ি আর চুমু ভালবাসা বাঙালি হারিয়ে দিল বিজেপিকে….

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরে কাজ করে চলেছেন বালুরঘাটের উত্তমদা। তিনি দর্জি। উত্তম বসাক ওরফে উত্তমদা নিজের পরিশ্রম ও খরচে মাস্ক বানিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

বালুরঘাট শহরের এনবিএসটিসি বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ছোট্ট টেলার দোকান। একটি সেলাই মেশিন সূচ সুতো কাঁচি ও একটি সাধারণ শোকেস।

দোকান মালিক উত্তম বসাক নিজেই সেলাইয়ের কাজ করেন। জামা প্যান্ট তৈরি করতে গিয়ে ছাট হিসেবে পড়ে থাকা কাপড়ের টুকরো তিনি ফেলে দেন না।

তা দিয়ে তিনি নিজে হাতেই মাস্ক তৈরি করছেন। সেগুলো বিক্রি না করে বিনামূল্যে সকলকে বিতরণ করে চলেছেন। একাজ শুধু এক দিনেরই নয়। গত বছর লকডাউনের সময় থেকেই চালিয়ে যাচ্ছেন।

বালুরঘাট শহরের বঙ্গবাসী পাড়ার বাসিন্দা উত্তম বসাক এলাকার সকলের কাছে সকলের কাছে উত্তমদা নামেই সুপরিচিত। ছোট্ট দোকান থেকে যৎসামান্য যা কিছু আয় হয় তাই দিয়েই তাঁর বৃদ্ধ বাবা মা স্ত্রী পুত্রর সংসার চলে। দৈনিক দোকান খুলে সামনে মাস্ক এমন ভাবে সাজিয়ে রাখেন যাতে সবার নজরে তা পড়ে।

বিনামূল্যে মাস্ক দেওয়া হচ্ছে এই কথাও সেখানে টাঙিয়ে দেওয়া রয়েছে। ফলে পথ চলতি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বাস স্ট্যান্ডে যাতায়াতকারী যাত্রীরা যাঁদের মাস্ক দরকার তাঁরা সবাই সেখান থেকে মাস্ক নিয়ে যাচ্ছেন।

উত্তমদা ইচ্ছে করলে তিনি নানা রঙের সুদৃশ্য মাস্ক গুলি পয়সা বিক্রিও করতে পারতেন। কিন্ত মানব সভ্যতার এই বিপদ মুহূর্তে অতিরিক্ত উপার্জনের পথ না মাড়িয়ে এভাবেই অসহায় মানুষের সেবা করে চলেছেন। তাঁর এই মহানুভবতায় খুশি প্রতিবেশি ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা।

উত্তম বসাক জানিয়েছেন পোশাক তৈরি করার পর কাপড়ের বহু টুকরো বেঁচে যায়। সাধারণত সেই টুকরো পোশাকে আর দরকার পড়ে না।

আগে ফেলেই দিতে হতো। গতবছর লকডাউনের সময় যখন চারিদিকে করোনায় চারিদিকে আতঙ্ক।

সাধারণের অনেককেই দেখা গেছে মাস্ক কিনতে না পেরে নাক মুখ খোলা নিয়ে রাস্তায় বেরোতে বাধ্য হয়েছেন। এই অবস্থায় প্রথম তাঁর মাথায় এসেছিলো টুকরো কাপড় দিয়ে মাস্ক বানিয়ে তা অসহায় মানুষদের দেবেন।

সেই থেকেই তিনি খদ্দেরদের জামাকাপড়ের বেঁচে যাওয়া নতুন কাপড়ের টুকরো দিয়ে মাস্ক বানিয়ে নিয়মিত মানুষের মধ্যে বিলি করছেন। তিনি বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় কাপড় দিয়ে মাস্ক তৈরি ও তা বিতরণের এই কাজটা মানুষ হিসেবে কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।

দক্ষিণ দিনাজপুরের মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুকুমার দে জানিয়েছেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউএর সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বেড়ে চলেছে। এই অবস্থা থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হল নাক মুখে মাক্স ও হাতে স্যানিটাইজারের ব্যবহার।

বিশেষ করে মাক্স পড়ে তবেই বাইরে বেরোনোর ব্যাপারে প্রতিনিয়ত প্রশাসনের তরফ থেকে মাইকে দিয়ে ঘোষণা করা হচ্ছে। তার পরেও দেখা গিয়েছে বহু মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছেন না।

আবার এমনও দেখা গিয়েছে যে পয়সা দিয়ে মাক্স কিনতে না পেরে অনেকে গামছা রুমাল অথবা কাপড়ের আঁচল নাকমুখে জড়িয়ে বের হচ্ছেন। সেক্ষেত্রে উত্তম বসাকের এই প্রচেষ্টা অতিমারীর এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.