ওয়াশিংটন:  ক্রমশ বাড়ছে সংক্রমণ! কবে ভ্যাকসিন আসবে সে বিষয়ে এখনও কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি কেউই। যদিও দিন-রাত খেটে ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টায় গবেষকরা। কিন্তু ভ্যাকসিন আসার আগে মাস্ককেই প্রধান ও শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহারের কথা বারবার বলে আসছেন তারা।

সম্প্রতি এক গবেষণাতে দেখা গিয়েছে যে, মাস্ক পরা আর না পরা- এই দুই অবস্থায় পার্থক্য আকাশ-পাতাল। গবেষণা বলছে, মাস্ক না পরা থাকলে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা ২৩ গুণ বেড়ে যায়। ফলে রাস্তায় বের হলে সবসময় মাস্ক পড়ার উপরেই জোর দিচ্ছেন ডাক্তাররা। বিশেষ করে ক্রমশ বাড়ছে সংক্রমণ।

উৎসবের মরশুমে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। তাই রাস্তায় বের হলে মাস্ক যাতে না খোলে সাধারণ মানুষ সে বিষয়ে অভিযান চালানো উচিৎ বলে মত গবেষকদের।

এদিকে গেল ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু ইউরোপের দেশগুলোতেই আক্রান্ত হয় ২ লাখের বেশি। এ নিয়ে বিশ্বে মোট রোগীর সংখ্যা ৪ কোটি ২১ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

করোনায় মারা গিয়েছেন ১১ লাখ ৪৪ হাজার। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হাঁচি বা কাশির পর বাতাসে ড্রপলেট ছড়ানোর মাধ্যমে ‘কফ ক্লাউড’ তৈরি হয় এবং তা ৫ থেকে ৮ সেকেন্ড থাকে। মাস্ক পরা না থাকলে এর মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িতে পড়তে পারে বলে মত গবেষকদের। তবে ওই সময়ের পর আর বাতাসে ভাসমান অবস্থায় থাকতে পারে না ড্রপলেট।

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড এ প্রসঙ্গে বলেন, করোনার বিস্তার প্রতিরোধে ভ্যাকসিনের চেয়েও শক্তিশালী সুরক্ষা দেবে মাস্ক। তিনি বলেন, তাদের কাছে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ রয়েছে যে করোনায় মাস্কই সবচেয়ে ভালো সুরক্ষা প্রদান করছে।

অন্যদিকে, বাংলায় কমল দৈনিক মৃতের সংখ্যা৷ কিন্তু আক্রান্ত চার হাজারের বেশি৷ কিছুটা বাড়ল দৈনিক সুস্থতার হার৷ এই পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিন লক্ষের বেশি করোনা রোগী৷ অষ্টমীর সন্ধ্যায় রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে একদিনে আক্রান্ত ৪,১৪৮ জন৷ শুক্রবার ছিল ৪,১৪৩ জন৷

সব মিলিয়ে মোট আক্রান্ত ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫৭৪ জন৷ গত ২৪ ঘন্টায় ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ শুক্রবার ছিল ৬০ জন৷ এদিন কিছুটা কমল দৈনিক মৃতের সংখ্যা৷ ফলে এই পর্যন্ত রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যাটা বেড়ে ৬,৪২৭ জন৷ অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা বাড়তে বাড়তে প্রায় ৩৭ হাজার৷

এদিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,৩৬ হাজার ৮০৭ জন৷ শুক্রবার ছিল ৩৬ হাজার ৪৭১ জন৷ তুলনামূলক ৩৩৬ জন বেশি৷ পয়লা অগস্ট অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা ২০ হাজারের একটু বেশি ছিল৷ তারপর প্রতিদিনই বাড়ছে অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যা৷ এদিনও নতুন আক্রান্তের তুলনায় সুস্থ হয়ে উঠার সংখ্যাটা কম৷

একদিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩,৭৫৩ জন৷ শুক্রবার ছিল ৩,৬৭৬ জন৷ এই পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লক্ষের বেশি৷ তথ্য অনুযায়ী, ৩ লক্ষ ২ হাজার ৩৪০ জন৷ সুস্থতার হার একটু বেড়ে ৮৭.৪৯ শতাংশ৷ শুক্রবার ছিল ৮৭.৪৫ শতাংশ৷ একদিনে যে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে কলকাতার ১৯ জন৷

দেশে এবং বিদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে টানা দু'দশক ধরে কাজ করেছেন । বাংলাদেশ থেকে মুখোমুখি নবনীতা চৌধুরী I