নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ ভ্রমণের পুরস্কার পেল ভারতবাসি! সারা বছরই বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত থাকা প্রধানমন্ত্রীকে তো এই ব্যবস্থা করতেই হবে৷ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যখন দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মাস্ক, গ্লাভস ও পিপিই(সুরক্ষা পরিধান) পাচ্ছেন না, তখন সার্বিয়াতে এগুলি বিক্রি করছে মোদী সরকার৷ হায় রে হতভাগ্য দেশ!

করোনা বিরুদ্ধে লড়াই জাতির উদ্যেশে ভাষণে প্রথমে ‘জনতা কার্ফু’ এবং তারপর ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন ১৩০ কোটির ভোটে জেতা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী৷ এতেই দায়িত্ব সেরে ফেলেছেন ভাষণে পটু মোদী৷ দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কথা না-ভেবে বিদেশে মেডিকেল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট বিক্রি করেছে ভারত৷ বুধবারই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে৷

সার্বিয়ার ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট পোগ্রাম এমনটা দাবি করছে। যদিও মেডিকেল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট রফতানির বিষয়ে তারা জানা নেই বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বুধবার সকালে ইউএনডিপি ইন সার্বিয়া নামে সার্বিয়ায় রাষ্ট্র সঙ্ঘের উন্নয়ন প্রকল্পের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে একটি কার্গো বিমানের ছবি টুইট করা হয়। যাতে বলা হয়, ভারত থেকে ৯০ টন মেডিকেল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট নিয়ে দ্বিতীয় বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি বেলগ্রেডে অবতরণ করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পণ্য কেনার জন্য সার্বিয়ার সরকারকে সাহায্য করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ৷

বুধবারের টুইটটি রিটুইট করে কংগ্রেসের মুখপাত্র মনীশ তিওয়ারি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশবাসি জানতে চাই এটা কী হচ্ছে? দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত প্রোটেকটিভ পরিধান নেই, আর আমরা সার্বিয়াতে রফতানি করছি।’

৯০ টন মেডিকেল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট রফতানি করা জিনিসের মধ্যে রয়েছে ৫০ টন অস্ত্রোপচারের গ্লাভস৷ এছাড়াও অসংখ্য মাস্ক ও অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত বিশেষ পোশাক৷ যা বর্তমানে আমাদের দেশের চিকিৎসা কর্মীদের জন্যেই বিশেষভাবে প্রয়োজন। পিপিই না-পেয়ে দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে রেনকোট৷

কোচি বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২৯ মার্চ আরেকটি চালান পাঠানো হয়েছে, এতে ৩৫ লক্ষ জোড়া জীবাণুমুক্ত অস্ত্রোপচারের গ্লাভস রয়েছে। এই রফতানির বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম-সচিব লব আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘আমাদের সবচেয়ে প্রথমে চেষ্টা থাকবে ভারতে যাতে চিকিৎসা সামগ্রীর প্রয়োজনীয় রসদ তৈরি থাকে৷ তার জন্যে প্রয়োজনে আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি থেকেও উপাদান সংগ্রহ করতে পারি। কিন্তু সার্বিয়ার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা রেখেই বলছি আমি এখনও পর্যন্ত এই রফতানি সম্পর্কে জানি না৷’

ইতিমধ্যেই ভারতের অনেক চিকিত্সক করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী দেখতে গিয়ে নিজেরাই আক্রান্ত হয়েছেন। নিজের অজান্তে পরিবারের সদস্যদের সংক্রমণও ঘটিয়েছেন অনেকে। সারা দেশের ছবিটা একই৷ দেশের একাধিক স্থানে পর্যাপ্ত প্রোটেকটিভ গিয়ার ছাড়াই লড়াই করতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রোগী দেখছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কাছে বারবার দাবি জানিয়েছে চিকিত্সকমহল। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা গিয়ারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। সম্ভব হলে দেশের মধ্যেই তা জোগাড় করা হবে। তা না-হলে দক্ষিণ কোরিয়া বা চিন থেকে আমদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কিন্তু ভারত কীভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা গিয়ার রফতানি করছে তার উত্তর দিতে পারেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সচিব৷ এই প্রথম নয়, এর আগেও একইভাবে ২৭ মার্চ বিমানে ৪০ টন স্বাস্থ্য সুরক্ষা গিয়ারে সার্বিয়াতে রফতানি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।