অ্যানাপোলিস: “Show must go on”-অ্যানাপোলিসের ‘ক্যাপিটাল গেজেট’ পত্রিকার কর্মীদের সাহস সেই বার্তাই দেয়৷ রক্তাক্ত অফিস, ভাঙচোরা ডেস্কে রক্তের দাগ৷ কিছুক্ষণ আগেই বন্দুকবাজের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৫ সহকর্মীর৷ তবে বয়কট নয়, কলম না থামানোর শপথই নিলেন ক্যাপিটাল গেজেটের ৩ সাংবাদিক৷

কার পার্কিংয়ে বসে লিখলেন নিজেদের দফতরে হওয়া বন্দুকবাজের হামলা৷ শুক্রবারের ক্যাপিটেল গেজেটের বড় বড় হরফে হেড লাইন-‘ফাইভ শট ডেড অ্যাট দ্য ক্যাপিটেল’৷

আরও পড়ুন: উত্তরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, দক্ষিণে বাড়ছে অপেক্ষা

দৃশ্যটা রক্ত ঠান্ডা করে দেওয়ার মতই৷ ঠিক ৩ ঘণ্টা আগে চোখের সামনে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়েছেন সহকর্মীরা৷ ৫ সহকর্মীর দেহ বের করা হয়েছে সবে৷ গোটা অফিস রক্তে মাখা৷ সেই হত্যালীলা চাক্ষুস করার পর আতঙ্ক নয়, বরং ফের কলম ধরার তাগিদ বারল৷

৩ সাংবাদিক নিজেদের ল্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে এলেন, কার পার্কিংয়ে বসেই লিখলেন নিজেদের সংবাদ দফতরে হওয়া বন্দুকবাজের তাণ্ডব৷ উদ্দেশ্য একটাই, যে কোনও প্রকারে কাগজ বেরোবেই৷ ভয়, নিরাপত্তাহীনতা, দুঃখ কোনওকিছুই ছিল না ওই সাংবাদিকদের চোখে৷ শুধু হাত চলছিল ল্যাপটপের কি প্যাডে৷

আরও পড়ুন: ‘মমতার সরকারে মন্ত্রী ছিলাম বলে আমি লজ্জিত’

তিন সাংবাদিক লিখলেন, তিন চিত্র সাংবাদিক ছবি তুলে গেলেন৷ সেই ছবি, লেখাই হামলার পরের দিন ক্যাপিটেল গেজেট জুড়ে ছাপা হল৷ নিজেদের মর্মান্তিক ঘটনা লিখলেন নিজেরাই৷ ক্যাপিটেলের সম্পাদক জিমি ডিবাটসের ট্যুইট-‘আমরা শোকাহত, কিন্তু হেরে যাইনি, ওরা আমাদের হারাতে পারবে না, কলম চলবেই’৷ ফলস্বরূপ-শুক্রবার ৪০ পাতার ক্যাপিটেল গেজেট পড়লেন গোটা বিশ্বের মানুষ৷ যার অধিকাংশ জুড়েই রইল ক্যাপিটালে বন্দুকবাজের হামলা৷

আরও পড়ুন: উপত্যকাবাসীর উপকারে ‘মদদগার হেল্পলাইন’

ক্যাপিটাল অফিস হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি সংগঠন৷ সন্দেহভাজন, ৩৮ বছরের শ্বেতাঙ্গ জারোড রামোস হত্যালীলা চালায় বলে মনে করছে ক্যাপিটালের নিজস্ব সূত্র৷ পুলিশের উপর ভরসা রাখলেও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে খোদ ক্যাপিটাল গেজেট৷

আরও পড়ুন: রাস্তায় কোটি টাকা কুড়োতে ব্যস্ত এলাকাবাসী

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।