নয়াদিল্লি: চ্যালেঞ্জার নিখাত জারিনকে হারিয়ে টোকিও অলিম্পিকের কোয়ালিফায়ারে পৌঁছলেন মেরি কম। ৫১ কেজি ওয়েট ক্যাটেগরিতে শনিবার ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে জারিনকে ৯-১ ব্যবধানে পরাস্ত করলেন ছ’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তবে বাউট শেষে রিংয়ে জুনিয়র প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে হাত না মিলিয়ে বিতর্কে মেরি কম।

এই জয়ের ফলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে চিনে যোগ্যতা অর্জন পর্বে এশিয়া-ওশিয়ানিয়া গ্রুপে লড়বেন তিনি। যোগ্যতা অর্জন পর্বে সাফল্য পেলে মেরির সামনে ২০২০ টোকিও অলিম্পকের দরজা খুলে যাবে। ফলাফল দেখেই আঁচ করা যায় এদিন একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়েই জারিনকে মাটি ধরান মেরি। কিন্তু শনিবার উত্তেজক এই বাউট শেষ হতেই ছ’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ আনতে শুরু করেন জারিন। বাউট শেষে রিংয়ে হাত না মেলানোর পাশাপাশি রিংয়ের মধ্যে একাধিকবার তাঁকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করেছেন মেরি। জারিনের অভিযোগ তেমনটাই।

এব্যাপারে মেরিকে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘ও আগে অন্যকে সম্মান করা শিখুক।’ মেরির কথায়, ‘আমি কেন ওর সঙ্গে হাত মেলাতে যাব? যদি ও চায় ওকে অন্যেরা সম্মান করুক তাহলে ওর উচিৎ অপরকে প্রথমে সম্মান করা। আমার এমন স্বভাবের মানুষ পছন্দ না। রিংয়ের মধ্যে নিজেকে প্রমাণ কর, বাইরে নয়।’

আসলে ঘটনার সূত্রপাত জারিনের একটি প্রতিবাদ ঘিরে। ২০১৮ ওয়ার্ল্ড বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতায় প্রাথমিকভাবে অলিম্পিক কোয়ালিফায়ারে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করার কথা ছিল মেরি কমের। কিন্তু প্রতিবাদ জানিয়ে জারিন বক্সিং ফেডারেশনের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন তাঁরও মেরির মতই অলিম্পিক কোয়ালিফায়ারে যোগ্যতা অর্জনের সমান অধিকার রয়েছে। পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের এই লড়াই। গত অক্টোবরে ভারতীয় বক্সিংয়ের গভর্নিং বডির কাছে জারিনের এই আবেদনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েই যে মেরি হাত মেলাতে অস্বীকার করেছে, তা আর বুঝতে বাকি নেই কারও। বাউট শেষে জারিন জানান জুনিয়র হিসেবে তিনি মেরির ব্যবহারে মর্মাহত।

পাশাপাশি এদিন জারিনের বিরুদ্ধে যাওয়া কিছু সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় তেলেঙ্গানা বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের। শুরু হয়ে যায় উত্তপ্ত বাক্য-বিনিময়। দেশের বক্সিং ঘিরে রাজনীতি চলছে বলে অভিযোগ করা হয় তেলেঙ্গানা বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের তরফে। শেষ অবধি আসরে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেন বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট অজয় কুমার।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।