নয়াদিল্লি: সাধারণ নাগরিকদের জন্য মারুত সুজুকি আগেই জিপসি গাড়ি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় সেনা তাদের কাজের জন্য অন্যান্য গাড়ির মধ্যে জিপসিকে বেশ নির্ভর করে। তাই দেখা গেল মারুতিকে জুন মাসে ভারতীয় সেনার জন্য ৭০০ বেশি জিপসি পাঠাতে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়ে প্রতিবেদন বের হয়েছে।

ওই প্রতিবেদন সূত্রে বলা হয়েছে, ভারতীয় সেনার কাছ থেকে অনুরোধ আশায় ওই জিপসি গাড়ি গুলি ডেলিভারি করা হয়েছে। এই জিপসির থাকে ১.৩ লিটার পেট্রোল মোটর। আর আগেই প্রমাণ হয়েছে এই গাড়ি সক্ষম ভারতীয় সেনাকে বহু বছর ধরে পরিষেবা দিতে বিশেষত পাহাড়ি অঞ্চল গুলিতে।

তবে এখনো জানা যায়নি নতুন এই জিপসি গুলি কোথায় পাঠানো হল। এর 4WD ড্রাইভ সক্ষম সব রকম প্রয়োজনে চলতে পারে। তবে মারুতির মুখপাত্র এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি। জিপসি যে সাহায্য করে থাকে সেটা হল এ গাড়ি ঘুরে বেড়ালেও খুব সামান্যই রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়।

বিশেষত দেশের সুদূর প্রান্তে যেখানে ভারতীয় সেনা টহলদারি চলা একান্ত প্রয়োজন সেখানে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গাড়িটির তুলনামূলক নিবিড় অনুপাত এবং পরিচিত পদ্ধতি পাহাড়ি অঞ্চলে চালানোর ক্ষেত্রে তাদের কাছে অতিরিক্ত আশীর্বাদস্বরূপ বলে মনে করা হয়।

জিপসি উৎপাদন এখন হয় শুধুমাত্র ভারতীয় সেনার জন্য কারণ এই গাড়িটিকে ভারতীয় রাস্তায় চলার ক্ষেত্রে উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যাপারে আধুনিকীকরণ করা নেই। আর সেই কারণে সাধারণ নাগরিকদের জন্য তা আর উৎপাদন করা হয় না। ভারতীয় সেনা একটা স্বত্ত ত্যাগ করার পর তা ম্যানেজ করতে এই গাড়িগুলির পরিষেবা নেওয়া অনুমোদন করে।

অন্যদিকে, যত দিন যাচ্ছে ততই ভারতীয় সেনায় অপরিহার্জ হয়ে উঠছে  ‘মারুতি জিপসি’। হ্যাঁ, এটাই সত্যি। সেনা কর্তাই হোন কিংবা সেনা-জওয়ান সবার এক পছন্দ মারুতি জিপসি। এমনকি, যে কোনও দুর্গম এলাকা কিংবা পাহাড়ে রসদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভারতীয় সেনার প্রথম পছন্দ জিপসি। আর সেই কারণেই সাধারণ মানুষের জন্যে নিষিদ্ধ এই গাড়ি।

কিন্তু কেন এই গাড়ি প্রথম পছন্দের সেনার কাছে? জানা যায়, মারুতি জিপসি একমাত্র জিপ যার ওজন কম হওয়ায় খুব সহজেই এয়ারলিফট করানো যায়। আবার এয়ার ড্রপিং-ও খুব সহজে হয়ে যায়। এরপরে এতে আছে ‘র পাওয়ারের’ সুবিধা। যে কোনও স্থানে খুব সহজেই চলে যেতে পারে জিপসি।

মরুভূমির রাস্তা বলুন বা এবড়ো-খেবড়ো পাথুরে পথ সমান দক্ষ এই গাড়ি! কোথাও জিপসির গতিরোধ চট করে সম্ভব হয় না। ১২৯৮ সিসির ৪ সিলিন্ডারের ইঞ্জিন যে কোনও অত্যাধুনিক এসইউভি-র ইঞ্জিনের মতোই শক্তিশালী। প্রয়োজন অনুযায়ী, জিপসির বডি অতি সহজে রদ-বদল করানো যায়। মারুতি জিপসির মাথার উপরটা খুবই শক্তিশালী। অন্তত ২০০ কেজি ওজন বহন করতে পারে। এছাড়াও এর উইন্ডশিলের কাঁচকে সহজেই সরিয়ে দেওয়া যায়।

সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা এবং টাটা সাফারি মারুতি জিপসিকে বাতিল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। তাতের তৈরি একের পর এক এসএউভি নেওয়ার জন্যে সেনা কর্তাদের জানানো হলেও জিপসি থেকে সরে আসতে নারা জ তাঁরা।

কারণ তাঁরা মনে করেন, যতই অত্যাধুনিকভাবে এসএউভি তৈরি হোক না কেন, পুরনো চাল সবসময় ভাতে বাড়েই! ফলে, ছোট আকারে এবং মেকানিক্যাল এফিসিয়েন্সি বৈশিষ্টে ভরপুর জিপসিকে আদৌ বাতিলের দলে ফেলা যাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ